Published : 14 Nov 2025, 10:58 PM
ঢাকার হাই কোর্টের সামনে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে আশরাফুল হক নামে যুবকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ‘বন্ধু’ প্রধান সন্দেহভাজন জরেজকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা এক বার্তায় জানিয়েছে ডিএমপি।
বার্তায় বলা হয়েছে, ‘পরকীয়ার জেরে’ আশরাফুলকে হত্যা করা হয়, আর ঘটনার ‘মূলহোতা’ গ্রেপ্তার জরেজুল ইসলাম।
এদিকে র্যাব-৩ এক বার্তায় জানিয়েছে, আশরাফুল হককে হত্যা করে লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করার মামলার আরেক সন্দেহভাজন জরেজের প্রেমিকা শামীমাকে ‘বিভিন্ন আলামতসহ’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে কোথা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাই কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেইটের কাছে নীল ড্রাম থেকে খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
২৬ টুকরো লাশের প্রথমে পরিচয় পাওয়া না গেলেও আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেইজ থেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ বলছে, লাশটি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আশরাফুল হকের।
এ ঘটনায় শুক্রবার শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে নিহতের বোন। এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ‘বন্ধু’ জরেজ নামে একজনকে ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ হিসেবে খোঁজার কথা বলেছিল পুলিশ।
তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা তুলে ধরে শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেছিলেন, “আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও, অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছি। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি প্রধান সন্দেহভাজনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।”
নিহতের স্বজনরা বলছিলেন, আশরাফুলের কারও সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না’। গত মঙ্গলবার তার বন্ধু জরেজের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। বুধবার বিকালে আশরাফুলের সঙ্গে পরিবারের সবশেষ কথা হয়েছে। এরপর কয়েকবার ফোন দিলে ‘জরেজ ফোন ধরে’ বলেছেন আশরাফুল ব্যস্ত আছেন।
এরপর বৃহস্পতিবার আশরাফুলের লাশ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার।
পুলিশ বলছে, কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আর আলু আমদানি করতেন। পণ্য আমদানির জন্য তার সরকারি লাইসেন্সও রয়েছে।
শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ‘লকডাউন কর্মসূচি’ ঘোষণা করে।
ফলে এদিন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হাই কোর্টের সামনে ও পুরো এলাকাতে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দিনভর কড়া নজরদারির মধ্যেই লাশের ড্রাম হাই কোর্ট এলাকাতে পড়েছিল, দুপুরেও স্থানীয় লোকজন সেটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সন্দেহ হলে তারা পুলিশ ডাকেন। সন্ধ্যায় ড্রাম খুলতেই বেরিয়ে আসে লাশের ২৬ টুকরা।
আরও পড়ুন: