Published : 28 Jun 2026, 06:17 PM
বাংলাদেশের জনশক্তিকে আরো দক্ষ করে তুলতে সুইজারল্যান্ড কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকায় সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও নিবিড় সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের যেসব কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসে তাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা ‘জনসংখ্যাগত লাভের’ সম্ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈদেশিক অভিবাসন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিজ দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তার চেয়েও বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আশ্বস্ত করেন, সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিক সহযোগিতা করে আসছে।”
পূর্ব এশিয়ায় চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “এই সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে।”
তবে ওইপিকে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এছাড়া মন্ত্রী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডের বৃত্তির সুযোগ বাড়াতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।