Published : 07 Sep 2025, 04:25 PM
দেশের ১৫০ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী অক্টোবর থেকে ‘মিড ডে মিল’ চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
‘মিড ডে মিল’ চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন বলেন, “মিড ডে মিলের কাজ এগোচ্ছে। ১৫০টি উপজেলায় শিগগির চালু হয়ে যাচ্ছে।”
এ কর্মসূচি চালু হতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমরা ডিপিপি তৈরি করলাম, সেটি আগের বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী তৈরি হলো। এরপর প্রক্রিয়া মেনে আমরা এটি একনেকে উপস্থাপন করলাম, তখন বিবিএসের নতুন পরিসংখ্যান বের হলো।
“তখন আমাদেরকে বলা হলো আপনারা এই (নতুন পরিসংখ্যান) অনুযায়ী করেন। একটা জেলার মধ্যে কোন অঞ্চলগুলো বেশি দরিদ্র সেটি তো পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে আবার এটিকে ঠিক করে পাস করাতে হল। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হলো।”
উপদেষ্টা বলেন, “আর যে প্রক্রিয়াগুলো... প্রকিউরমেন্টে প্রক্রিয়া, ট্রেনিংয়ের বিষয়গুলো, সেগুলো চালু আছে, আমরা আশা করি আমরা পারবো।”
কবে পারবেন- জানতে চাইলে বিধান রঞ্জন বলেন, “আমরা আশা করি, অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিড ডে মিল চালু করতে পারব।”
‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচিতে ডিম, মৌসুমি ফল, বিস্কুট, দুধসহ পাঁচ ধরনের খাবার থাকবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার মান বাড়াতে এবং সাক্ষরতা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি কমিয়ে আনা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা বিধান।
তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি ছুটি যাতে কিছু কমিয়ে নিয়ে আনা যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজটা করতে চাই। কারণ বিচ্ছিন্নভাবে এটা করলে হবে না।’’
এক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন থেকে কমিয়ে একদিন করার ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আপাতত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ক্যালেন্ডারে ছুটি কিছুটা কমানো। আমরা যদি সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিনকে একদিন করতে চাই, সেটা সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু একই রকম- তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে করা কঠিন। আমাদের ক্যালেন্ডারে যে ছুটি আছে সেক্ষেত্রে আমরা কিছুটা কমিয়ে আনব।”

তিনি বলেন, “আমি মনে করি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল কাজই হচ্ছে সাক্ষরতা। পড়াশোনা যদি স্কুলের হতে হয়- তবে প্রয়োজনীয় একটি শর্ত হচ্ছে কন্ট্রাক্ট আওয়ার, একজন শিক্ষক ছাত্রকে কতটুকু সময় দিতে পারছেন।
“এই কন্ট্রাক্ট আওয়ার প্রথমত নির্ভর করছে কতদিন স্কুল খোলা থাকে। আপনারা ক্যালেন্ডার দেখেন- ৩৬৫ দিনের মধ্যে আমার স্কুল খোলা থাকে ১৮০ দিন। পড়াশোনাটা যে হবে, স্কুল কত দিন খোলা পাচ্ছি! এর মানে আমাদের অনেক অপ্রয়োজনীয় ছুটি রয়ে গেছে।'’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বরাতে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭.৯% (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪)। অর্থাৎ প্রায় ২২.১% জনগোষ্ঠী এখনো নিরক্ষর, যারা কখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি বা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েছে।”