Published : 09 Sep 2025, 01:28 PM
সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে মানববন্ধন করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন পাবনা-১ সংসদীয় আসনের কয়েশ মানুষ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সামনে পাবনা-১ আসনের কয়েকশ বাসিন্দারা জড়ো হয়। তাদের হাতে সংসদীয় আসন সীমানা পুনর্বহালের দাবি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এ সময় তারা ‘ইসির অবৈধ গেজেট মানি না, মানব না’, ‘পাবনার সাঁথিয়া-বেড়া ভাই ভাই, বিভক্তি মানি না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান তোলেন।
বেড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদ্দুজামান নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা পাবনা-১ সংসদীয় আসনের বেড়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে এখানে এসেছি। আমাদের দাবি এ আসনের সীমানা পুনর্বহাল।"

তিনি বলেন, বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটারের কম। আর বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সুজানগর উপজেলা পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৩৮-৪০ কিলোমিটার।
"সুতরাং ভৌগলিক বাস্তবতায় সাঁথিয়ার সাথেই বেড়ার সংযোগ সবচেয়ে যৌক্তিক, এ দাবি আমাদের।"

পাবনা-১ ও ২-এ দুই আসনে আগের মত রাখতে চাইলেও আপত্তির মধ্যে ইউনিয়নগুলো বাদ দিয়ে উপজেলার অখণ্ডতা রেখে সীমানায় পরিবর্তন এনেছে ইসি।
এবারে পাবনা-১ আসনে জায়গা পেয়েছে সাঁথিয়া উপজেলা, বেড়া উপজেলার- বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউপি।
আর সুজানগর উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউপি ছাড়া বেড়া উপজেলার বাকি অংশ নিয়ে পাবনা-২ আসন করেছে ইসি।

বেড়া কলেজ শাখার ছাত্রদলের আহবায়ক সালমান হোসেন বলেন, "পাবনা ১ আসনে সাঁথিয়া ও বেড়া (আংশিক) পূর্বের সীমানা পুনর্বহালের দাবি এখানে মানববন্ধন করছি। দাবি আদয় না হওয়া পর্যন্ত এখানে আমরা অবস্থান করব।"
সাঁথিয়া আংশিক বেড়া পুনর্বহালের জন্য ৭ টি কারণ তারা তুলে ধরেছে।
১. ভৌগলিক নিকটবর্তীতা: বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটারের কম। অপরদিকে বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সুজানগর উপজেলা পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৩৮-৪০ কিলোমিটার। সুতরাং ভৌগলিক বাস্তবতায় সাঁথিয়ার সাথেই বেড়ার সংযোগ সবচেয়ে যৌক্তিক।
২. ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য: সাঁথিয়া (১০ টি ইউনিয়ন ১ টি পৌরসভা) ভোটার সংখ্যা: ৩,১৭,০৩৮ জন। এই সংখ্যা নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরদিকে বেড়া-সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪,৬২,৭৬৭ জন, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অতিরিক্ত।
৩. নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা: নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী ভোটার পার্থক্য সর্বোচ্চ ৩০% এর মধ্যে থাকতে হবে। বেড়া ও সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪০% বেশি হয়ে যায়, যা নীতিমালা বহির্ভূত।
৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতির মিল: সাঁথিয়া, বেড়া ও সুজানগর উপজেলার জনগণের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা এক ও অভিন্ন। তাই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সাঁথিয়া-বেড়া সংযুক্তিই যৌক্তিক।
৫. নদী বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: বেড়া উপজেলায় ৩টি প্রধান নদী বন্দর রয়েছে: বেড়া পোর্ট, নগরবাড়ি ঘাট, কাজিরহাট ঘাট, পূর্বের সীমানায় ১টি বন্দর পাবনা-১ এ এবং ২টি বন্দর পাবনা-২ এ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ভারসাম্যপূর্ণ। যদি সুজানগরের সাথে বেড়া উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ৪ টি ইউনিয়ন যুক্ত করে দিলে ৩ টি নদী বন্দরই পাবনা ২ সুজানগর এ চলে যায়, অপর দিকে সাঁথিয়া উপজেলার কোন নদী বন্দর থাকে না যার কারণে কোন উন্নয়ন হবে না। সাঁথিয়ার সাথে বেড়ার সড়ক যোগযাযোগ দুরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার আর বেড়া উপটজেলা থেকে সুজানগর উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার সুতরাং একজন সাধারন নাগরিকের জন্য, তাই প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কাজ করা খুবই কষ্টকর।
৬. প্রশাসনিক ভারসাম্য: বেড়া আংশিক সুজানগর উপজেলার সাথে যুক্ত হলে সুজানগরে ২টি পৌরসভা ও ১৯ টি ইউনিয়ন হবে, অপরদিকে সাঁথিয়া উপজেলাতে মাত্র ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে। যা সুজানগর উপজেলার অর্ধেক হয়। সুতরাং সাথিয়া উপজেলার চেয়ে সুজানগর উপজেলা দ্বিগুন হয় যা কোন মতেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে প্রশাসনিক সেবায় অসামঞ্জস্যতা তৈরি হবে।
৭. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: অতীতেও ৪০ বছরের ইতিহাসে নির্বাচন কমিশন ভৌগলিক বাস্তবতা, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে পাবনা-১ (সাঁথিয়া বেড়া আংশিক) ও পাবনা-২ (সুজানগর+ বেড়া আংশিক) নির্ধারণ করেছিল। যাহা ছিলো সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও বাস্তব সম্পূর্ণ।
এলাকাবাসী বলছে, ভৌগলিক অবস্থান, ভোটার ভারসাম্য, নীতিমালা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, নদী বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় সাঁথিয়া আংশিক বেড়া পুনর্বহালই একমাত্র যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান।
৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকে সারাদেশের অনেক জায়গাতে সীমানা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু সংশ্লিষ্ট আসনের এলাকাবাসীরা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোযারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, সীমানা পুণঃনির্ধারণে ইসি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এ নিয়ে আদালতে বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
আসন সীমানা নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ নেই, আন্দোলনেও লাভ নেই: ইসি আনোয়ারুল