Published : 18 Jan 2026, 09:16 PM
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ‘ফুয়েল লোডিং’ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যের বরাতে রোববার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গত শুক্রবার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবশেষ পরিস্থিতি এবং উপদেষ্টার সফরের বিষয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়।
উপদেষ্টা বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে জাতীয় বিদ্যুৎখাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ প্রকল্প ‘গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে’ বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সব নিয়মকানুন মেনে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
“প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি প্রতিষ্ঠান রোসাটম-এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ ইউনিট-১ এ ফুয়েল লোডিং করা সম্ভব হবে।”
আগামী মার্চের শেষ দিকে ইউনিট-১ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট-১ থেকে কার্যকরভাবে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপদেষ্টা প্রকল্প পরিদর্শনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।
১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার রূপপুরে। সেখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
এই নির্মাণ ব্যয়ের ১০ শতাংশের অর্থায়ন করছে সরকার, বাকি ৯০ শতাংশ রাশিয়া ঋণ হিসাবে দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ হবে ৬০ বছর। পরে তা আরও ২০ বছর তা বাড়ানো যাবে।
২০১৩ সালের অক্টোবরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লি ও পানি শীতলকারী ডোমের কনক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করেন।
২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেইন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরো বিলম্বিত হয়।