Published : 02 Dec 2025, 09:18 PM
পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার’ জন্য বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমের নাম এসেছে, যা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
জানতে চাইলে কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, “তদন্তে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এখনকার আইজি বাহারুল আলমও রয়েছেন। সেই সময় তিনি এসবির প্রধান ছিলেন।”
কী কারণে তাদের নাম এসেছে প্রশ্ন করলে কমিশন প্রধান বলেন, “তারা সেই সময় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলেই তাদের নাম প্রতিবেদেনে এসেছে। এখন সরকারের উচিৎ হবে প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো জাতিকে জানানো ও বাস্তবায়ন করা।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইজিপি বাহারুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তদন্ত কমিশন তদন্ত করেছে, এখন সরকার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। এখানে আমার দেখার বা বলার কিছু নেই।”
কমিশনের প্রতিবেদনে নাম আসা বাকি চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার নাঈম আহমেদ, সাবেক (পলাতক) অতিরিক্ত আইজি (এসবি) মনিরুল ইসলাম এবং বিডিআর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ।
দেশের ইতিহাসের ভয়াবহ ওই হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদের জামাতা ক্যাপ্টেন মাজহারও নিহত হন। ক্যাপ্টেন মাজহার ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদের এডিসি।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন এখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা খুব সিরিয়াসলি দেখছে। অনেক ভলিউম, সবটা পড়া হয়নি, পড়া হলে উনাদের রেকোমেন্ডেশনগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। ভালো ভালো রেকোমেন্ডেশন আছে, যেহেতু পুরোটা পড়িনি, সেহেতু এখন পুরোপুরি বলতে পারব না।"
কমিশনের প্রধান ফজলুর রহমান বলেছেন, তারা প্রতিবেদনটির ক্লাসিফায়েড বা গোপনীয় হিসেবে জমা দেননি। সরকার চাইলে এটি প্রকাশ করতে পারে।
তবে সরকার তা করবে কি না, সে বিষয়ে কোনো আভাস দেননি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।
দেড় দশক পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে এলে ওই ঘটনা পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। পরে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশন রোববার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ থাকার পাশাপাশি সেই সময়ের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ‘সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ’ পাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সেখানে বলা হয়েছে, এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে ‘প্রধান সমন্বয়কের’ ভূমিকা পালন করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হওয়ার কথা তুলে ধরে এর সঙ্গে ‘ভারতীয় যোগসাজশ থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার’ কথা বলেছেন কমিশনের প্রধান।
ওই সময় পুলিশের বিশেষ শাখার নেতৃত্বে থাকা বাহারুল আলম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
পিলখানার ঘটনার পরপরই তাকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে পাঠানো হয়। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনেও দায়িত্ব পালন করেন বাহারুল আলম। দুই দফা ‘পদোন্নতিবঞ্চিত’ এই কর্মকর্তা ২০২০ সালে অবসরে যান।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে পুলিশ বাহিনীতে রদবদলের অংশ হিসেবে বাহারুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে ফিরিয়ে আইজিপির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুরনো খবর
অবসরে যাওয়া বাহারুল আলম নতুন আইজিপি, সাজ্জাত ডিএমপি কমিশনার
পিলখানা হত্যার ষড়যন্ত্রে 'ভারতের যোগ' পেয়েছে কমিশন
পিলখানা হত্যায় হাসিনার 'সায়' ছিল, দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ: কমিশন