Published : 01 Jan 2026, 03:54 PM
নতুন শিক্ষা বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিকের সব বই শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
তিনি বলেন, “এ বছর প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ের মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
“চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি বই বিনামূল্যে মুদ্রণ করেছে সরকার। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও বিতরণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষিকা যারা আছেন, আপনাদের জন্য নির্দেশিকা বই করেছি। শিক্ষার্থীদের পড়াতে আপনাদের করণীয় কী, সেসব বিষয়ে সমস্ত ভাষায় ছবির মাধ্যমে আমরা বিষয়গুলা বর্ণনা করেছি।
“শিশু খেলায় খেলায় শিখবে এবং তারা আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করবে। শিশুরা কবিতা আবৃত্তি করবে, তারা বিতর্ক করবে, তারা গান গাবে, সবকিছু নিয়ে যেন তাদের বিকাশ হয়; সেটা আমরা দেখব। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে এই বিষয় রয়েছে, ফলে আমরা আশা করি, আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি, সবার সহযোগিতার মাধ্যমে সেটা করতে পারব।”
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বই বিতরণ কার্যক্রমে বক্তৃতা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুল লতিফ।
পরে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

সেখানে তিনি বলেন, “এখানে কিছুদিন আগে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। এসব ঘটনা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে আশার কথা হলো, এ দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।
“সুকুমারবৃত্তির চর্চা ও শিক্ষার অনুশীলন আপাতদৃষ্টিতে কোমল মনে হলেও, এগুলো মানুষকে এমনভাবে গড়ে তোলে, যাতে তারা সব ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।”
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়; দেওয়া হয় আগুন।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ কপি নতুন বই ছাপা ও বিতরণের কাজ গত ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। আর মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের (মাদ্রাসার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) শিক্ষার্থীদের ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে বুধবার রাত পর্যন্ত উপজেলায় পৌঁছেছে ১৫ কোটি ৬১ লাখ বই।
বাকি পাঁচ কোটি ৮১ লাখ বইয়ের অপেক্ষা ‘মধ্য জানুয়ারিতে’ কাটবে বলে আশা এনসিটিবির কর্মকর্তাদের