Published : 21 Jan 2026, 07:45 PM
দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, তাতে উত্তীর্ণ হয়েছের ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী।
বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় ফল প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
গত ৯ জানুয়ারি ৬১টি জেলায় ১৪০৮টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় ‘অসদুপায় অবলম্বন’ ও ‘ডিভাইস ব্যবহারের’ অভিযোগে দুই শতাধিক প্রার্থী বহিষ্কৃত হলেও ‘অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি’ বলে দাবি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, “রেজাল্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পাওয়া যাবে।”
দুই ধাপের মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫ জন প্রার্থী আবেদন করলেও ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (https://mopme.gov.bd) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (https://dpe.gov.bd) লিখিত ফল পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তর বলছে, “এ ফলাফল সাময়িক ফলাফল হিসেবে গণ্য হবে। এ ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা কেবল মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ফল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য কোন নিশ্চয়তা দেয় না।”
‘ভুল-ত্রুটি’ সংশোধন ও প্রয়োজনে ফল বাতিল করার এখতিয়ার ‘কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে’ তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল তথ্য দিলে বা কোনো তথ্য গোপন করেছেন বলে প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ তার ফলাফল বা নির্বাচন বাতিল করতে পারবে।
অধিদপ্তর বলেছে, প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট ও নোটিস বোর্ডে প্রকাশ করা হবে বলেও অধিপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এ পরীক্ষা গেল ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে পরীক্ষা পেছানো হয়।
প্রথম ধাপে গত বছরের ৫ নভেম্বর রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্কুলগুলোর ১০ হাজার ২১৯টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায়। দ্বিতীয় ধাপে গত ১২ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্কুলগুলোর ৪ হাজার ১৬৬টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
‘প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলেনি’
লিখিত পরীক্ষায় সারাদেশে ‘অসদুপায় অবলম্বন’ ও ‘ডিভাইস ব্যবহারের’ অভিযোগ দুই শতাধিক প্রার্থী বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন প্রার্থীদের একাংশ।
তবে ‘প্রশ্নফাঁস বা অন্যান্য অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি’ বলে দাবি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
একটি ‘গোয়েন্দা সংস্থার’ তদন্তের বরাতে গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষা নিয়ে ‘ভুয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে প্রতারণা’ হয়েছিল দাবি করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান অবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সই করা ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারাদেশে জেলা প্রশাসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ করা মনিটরিং কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহায়তায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
“কোনো জেলা থেকে কোনো প্রকার অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।”
‘যথাযথভাবে’ পরীক্ষা পরিচালনায় ‘দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের’ কারণে ‘অসদুপায় অবলম্বন ও ডিভাইস ব্যবহারের অপরাধে’ দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ বা নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর বলছে, “ভুয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে প্রতারণার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক আটক ও মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।”
পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ১১ জানুয়ারি দেড় শতাধিক ব্যক্তি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন।
অধিদপ্তর বলেছে, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো ‘গোয়েন্দা সংস্থার’ কাছে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে ‘গোয়েন্দা সংস্থা’ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়।