Published : 03 Jul 2026, 07:47 PM
রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর দিনে বাবা ও দুই ছেলেসহ আরো চারজনকে আটকে তথ্য দিয়েছেন পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আটকের তথ্য দিয়েছেন।
সন্ধ্যায় আরো দুজনকে আটকের কথা জানিয়েছে র্যাব-২। এ নিয়ে মোট ৯ জনকে আটক করা হল।
আটকরা হলেন- রিপন (২৭), তার ভাই নিরব (২৫) ও তাদের বাবা মজনু মিয়া (৬০), মো. মিজানুর রহমান (৪০), মো. সুমন (২৫) ও মো. শহীদ (৫৯)।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা পিতা-পুত্র। ঘটনার সময় তিনজনই ঘটনাস্থলে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দেখা গেছে।”
ডিবি বলছে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবির তেজগাঁও বিভাগের একটি দল চারজনকে আটক করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর আদাবর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড় এলাকায় সালিশ বৈঠকের সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ৪৫ বছর বয়সি মো. আবুল বাশার বাদশা ও সভাপতি ৩৫ বছর বয়সি মো. সাদ্দাম হোসেন গুরুতর আহত হন।

তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাদশার মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারসংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আবার সংঘর্ষ বাধে। এতে বাদশা ও সাদ্দাম ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, আটক রিপন সরাসরি বাদশাকে ছুরিকাঘাত করেন। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা পালিয়ে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে সোয়েব হোসেন সোয়াইব, আরমান ও নয়নকে আটক করে আদাবর থানা-পুলিশ। এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
আটকদের মধ্যে সোয়াইবসহ সন্দেহভাজন দুই আসামিকে শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার বিষয়ে পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যায় সন্দেহভাজন দুই আসামি কারাগারে
আদাবরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: তিন সন্দেহভাজন আটক
বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ বলছে ‘ফুটবল বিশ্বকাপে সমর্থন’ নিয়ে বিরোধ