Published : 01 Apr 2026, 12:12 AM
স্বামী ও এক ব্যবসায়ী অংশীদারের বিরুদ্ধে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল এবং একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন রাজধানীর সবুজবাগের এক নারী উদ্যোক্তা।
মঙ্গলবার ঢাকার নিম্ন আদালতে আইনজীবী সফিক জামানের চেম্বারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তর অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘নিউ বিডি নিট গার্মেন্টস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি ছিলেন তিনি। কোভিডের সময়ে অর্থ সংকটে পড়লে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সোয়াইব আহমেদ নামে একজনকে পার্টনার করে চেয়ারম্যান পদে বসান। কিন্তু সেই পার্টনার তার স্বামী শামসুল ওয়াদুদ খন্দকারের সঙ্গে যোগসাজশে ব্যবসা দখলে নেন। এরপর স্বামী ও ব্যবাসায়িক পার্টনার মিলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক পার্টনার আমার স্বামীকে ব্যবহার করে। আমার স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশে আমাকে ব্যবসা থেকে সরানোর চেষ্টা করে। তার অত্যাচারে আশুলিয়া থানায় আমি জিডি করি। এরপর আমাকে অত্যাচার করে ৫০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তারা দাবি করে এই প্রতিষ্ঠান তাদের।”
স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এখন তারা আমার এই প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। আমাকে মামলা দিয়ে সেখান থেকে বিরত রেখেছে। এই দখল কাজে যুক্ত হয়েছে আমার স্বামী শামসুল ওয়াদুদ খন্দকার।
“শামসুল ওয়াদুদ আমাকে বিয়ে করার জন্য হলফনামা করে কিন্তু রেজিস্ট্রি করেনি। তারা একটি সিন্ডিকেট। আমার স্বামী এখন দাবি করছে, আমাদের নাকি বিয়েই হয়নি। অথচ আমার স্বামী বিভিন্ন সময়ে আমার থেকে ৬৯ লাখ টাকা নেয়। আমার ব্যবসা হাতিয়ে নেয়ার জন্য আমার স্বামী বাসা থেকে ব্যবসার চুক্তিপত্র, চেক নিয়ে গেছে। সে যখন বিয়ের কথা অস্বীকার করছে, তখন আমি একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করি। এরপর থেকেই আমার স্বামী ও ব্যবসায়িক পার্টনার দুইজন মিলে আমাকে হেনস্থা করছে। ঢাকা, বগুড়া, জামালপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় আমাকে হয়রানি করার জন্য একাধিক মামলা দিয়েছে।”
শামসুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে ‘ধর্ষণ মামলায়’ ওই নারী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ২ জুন তাকে বিয়ে করার জন্য ওয়াদুদ ঢাকা জজ কোর্ট এলাকায় কাজী অফিসে নিয়ে যান। পরে বিয়ের রেজিস্ট্রি করবেন মর্মে একটি হলফনামা করেন। পরবর্তীতে একসঙ্গে বসবাস করে ব্যবসা করাসহ নানা কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে ওয়াদুদ বিয়ের হলফনামা অস্বীকার করে রেজিস্ট্রি করেননি।”
২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই মামলা করেন তিনি। সে বছরের পেয়ে ২৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এ ছাড়া অভিযোগকারী নারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরো তিনটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে শামসুল ওয়াদুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সে (নারী উদ্যোক্তা) তো মামলা করেছে, আবার সংবাদ সম্মেলনও করেছে। আমার সময় হলে আমিও সংবাদ সম্মেলন করব।”