Published : 10 Mar 2026, 02:00 PM
কবর থেকে মানুষের কঙ্কাল তুলে প্রক্রিয়াজাতের পর বিক্রিকারী চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকার তেজগাঁও ও উত্তরা থেকে ৪৭টি খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড়সহ এই চারজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, কবর থেকে তোলা কঙ্কালগুলো ৫-৭ হাজার টাকায় কিনে নিতেন তারা। আর প্রক্রিয়াজাতের পর মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাছে তারা বেচতেন ১৫-২০ হাজার টাকায়। চক্রটি গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর এলাকা থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে আসছিল।
গ্রেপ্তাররা হলেন-কাজী জহুরুল ইসলাম সৌমিক (২৫), আবুল কালাম (৩৯), আসাদুল মুন্সী জসিম এরশাদ (৩২) ও ফয়সাল আহম্মেদ (২৬)।
তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার সৌমিক উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। আর ফয়সাল একই কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নের জন্য অপেক্ষমান।
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেছেন, কোনো ভুক্তভোগী পরিবার তাদের কাছে অভিযোগ জানালে ডিএনএ প্রোফাইলিং করে কঙ্কালগুলো ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তেজগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়া এলাকার সড়কে চক্রের এক সদস্যের অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে সৌমিককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে আটক করা হয়, তাদের দুজনের কাছে দুটি কঙ্কাল পাওয়া যায়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে এই চক্রের হোতা ফয়সালকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৪৪টি খুলিসহ মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
উপকমিশনার মিজান বলেন, “তাদের অনলাইনে হোলসেলিং গ্রুপ আছে। এই গ্রুপে ৭০০ জন কর্মী কাজ করেন, আর গ্রুপ মেম্বার রয়েছে ২০ হাজারের মতো।”
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তারা গত কয়েকবছর ধরে কঙ্কাল উত্তোলনের পর ‘প্রসেস করে’ বিক্রি করা কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত কেউ ৫০টি, কেউ ২০-২৫টি কঙ্কাল বিক্রির কথা স্বীকার করেছে।

আবুল কালামের নামে অন্তত ২১টি মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ; এর মধ্যে ২০০৯ সালে কবর থেকে কঙ্কাল চুরির মামলাও রয়েছে। আর গ্রেপ্তার এরশাদের নামে দুটি মামলা থাকার তথ্য মিলেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মিজান বলেন, “তারা কঙ্কালগুলো মাঠপর্যায় থেকে ৫-৭ হাজার টাকায় কেনে। পরে সেল করে ১৫-২০ হাজার, যার কাছে যেমন পায়। তারা যে বিক্রি করে, এটা অনেকেই জানে।
“যখন কেউ কঙ্কাল কিনতে আসে বা অনলাইনে বুকিং দেয়, তখন তার কাছ থেকে ২-১ সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়। তারপরে কঙ্কালটা ডেলিভারি দেওয়া হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের ক্রেতাদের বেশিরভাগই মেডিকেল শিক্ষার্থী। তবে এর বাইরে অন্যান্য চক্রও আছে, যারা কমদামে কেনে বেশিদামে বিক্রি করে।
উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, “যারা কবর থেকে হাড়গুলো ওঠাচ্ছে, প্রসেস করছে, আবার তাদের কাছ থেকে নিয়ে সুন্দর করে মেলাচ্ছে। এই প্রসেসের সাথে চারজনই ইনভলব। ফাইনালি বিক্রি করে স্টুডেন্টের কাছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা চারটি জেলার কথা প্রাথমিকভাবে বলেছেন। লাশ কবরস্থ হওয়ার সাধারণত এক বছর পর সেগুলো উত্তোলনের চেষ্টা করেন। প্রথমে তারা অবজার্ভ করেন। তবে যে কবরস্থাগুলো বেশি সুরক্ষিত, ওখানে কিন্তু এ কাজগুলো করতে পারেন না।
“যেখানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কবর থাকে, অরক্ষিত অবস্থায় থাকে, পাহাড়াদার থাকে না, লাইটিং বা সিসি ক্যামেরা থাকে না এবং লোকজনের যাতায়াত কম, সেসব কবর থেকে তারা কঙ্কালগুলো উত্তোলন করে। সংগ্রহ করার পর সেটা কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রসেস করে সেল করা হয়।”
গ্রেপ্তারদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা ইবনে মিজান।