Published : 11 May 2026, 04:14 PM
উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিদেশে যাওয়া তরুণদের ফিরে এসে দেশের সেবায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, "আমি বলবো, ব্রেইন ড্রেইন নয়, রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন করতে হবে। আমাদের দেশের সন্তানরা বাইরে গিয়ে উচ্চ শিক্ষিত হবে এবং সেখান থেকে আবার দেশে ফিরে আসবে। এসে দেশ সেবায়, মানবতার সেবায় কাজ করবে। সেভাবেই আমাদের দেশের উন্নয়ন হবে।”
র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এদিন ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ এর দ্বিতীয় পর্ব ও এডুকেশন এক্সপোর উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তার মধ্যে তিনি কারিগরি শিক্ষাকে আরো অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে আমাদের নির্বাচনি এজেন্ডায় শিক্ষা বিষয়ে ব্যাপক কাজ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশআল্লাহ আপনারা পর্যায়ক্রমে দেখতে পাবেন এবং আমরা কাজ করব। উনার নির্দেশে এই আশ্বাস আপনাদের দিতে পারি।"
পাকিস্তানের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়িএই এডুকেশন এক্সপোতে অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধন ঘোষণার পর এডুকেশন এক্সপো পরিদর্শন করে পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, "এই স্টলগুলো ঘুরে মনে হল, সমগ্র পাকিস্তান আমি ঘুরে আসছি। এবং তাদের শিক্ষায় যে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, আমি সত্যি মুগ্ধ। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক অনেক এগিয়ে গেছে।"
পাকিস্তান 'আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ'- এর আওতায় আগামী ৫ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে দেশটিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। তারা এখন পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখা করছেন। বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগে পাশাপাশি তারা মাসিক ৪০ হাজার টাকা বৃত্তি পাচ্ছেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনাখরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করায় পাকিস্তানকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমি তাদের স্বাগত জানাই যে আমাদের বাংলাদেশে এসে আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দেশে ফুল স্কলারশিপ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
“ইনস্টিটিউশন ওয়াইজ, একাডেমিক ক্রেডেনশিয়াল অনুযায়ী তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেন্টার অব এক্সেলেন্স। সেই জায়গায় আমাদের স্টুডেন্টরা যাবে এজন্য আমি তাদেরকে আন্তরিকভাবে মোবারকবাদ জানাই।”
তিনি বলেন, "আমাদের সাথে পাকিস্তানের কালচারের মিল রয়েছে, খাবার দাবার, রিলিজিয়াস মিল রয়েছে। অতএব আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে গিয়ে সুন্দর থাকতে পারবে এটা আমার বিশ্বাস রয়েছে। যে পরিমাণ স্কলারশিপ তারা দিচ্ছে, তারা সেখানে সুন্দর ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারবে।"
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নতি প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, "বিদেশি স্টুডেন্টরা আসুক আমাদের দেশে এবং এই গ্লোবাল ভিলেজে আমরা যেন সকলেই শিক্ষায় মানোন্নয়ন করতে পারি এবং এই প্রতিযোগিতায় যেন আমরা টিকে থাকতে পারি।"
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘যথাসাধ্য’ কাজ করার অঙ্গীকারের কথা আবারো তুলে ধরেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ-পাকিস্তান নলেজ করিডোর শিক্ষা ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শিক্ষাখাতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক দিন দিন জোরদার হচ্ছে। আগামীতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতিতে শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
শিক্ষার্থীদের বৃত্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, "পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান অত্যন্ত ভালো। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সেখানে কোনো খরচ ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও জীবনযাত্রার জন্য মাসিক ৪০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে, তা তাদের পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে সহায়ক হবে।
“আগামীতে পাকিস্তানের মত এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী বৃত্তি ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে আকৃষ্ট করা হবে।"
শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ’-এর দ্বিতীয় ধাপের সফল বাস্তবায়নের জন্য শুভকামনা জানান।
অন্যদের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক এবং বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।