Published : 16 May 2026, 08:23 PM
দেশে একটি মহল রাজনীতির নামে ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’, এ কথা তুলে ধরে জনগণকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতির নামে যদি কেউ বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে চায়, রাজনীতির নামে যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, আপনারা কি বসে থাকবেন? আমরা কেউ বসে থাকবো না।”
শনিবার বিকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, “দেশের মানুষ চায় স্থিতিশীলতা, দেশের মানুষ চায় শান্তি। কিন্তু কিছু মানুষ, একটি মহল বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করছে।
“২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, দেশের মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে।”
মানুষকে সাথে নিয়েই বিএনপি সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজে হাত দিয়েছে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি যদি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি মহল রাজনীতির নামে, তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

“আমি ছোটবেলায় থেকে দেখে এসেছি রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি। আমি ছোটবেলায় থেকে দেখে এসেছি রাজনীতি মানে নতুন মিল-কারখানা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আমি ছোটবেলায় থেকে দেখে এসেছি, রাজনীতি মানে মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা। রাজনীতি মানে আমি দেখে এসেছি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কাজেই এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি।”
বিভ্রান্তি ও অরাজকতার বিরুদ্ধে কেউ বসে থাকবে না, এই বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “কারণ বিএনপি যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, প্রত্যেকটি কর্মসূচি হচ্ছে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসূচি।
“সেজন্যই আমরা আন্দোলন করেছি। আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষ লক্ষ লক্ষ, হাজার লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছে হতাহত হয়েছে। এখন একাত্তর সালে যেমন দেশকে স্বাধীন করেছিলাম আমরা ২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ থেকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। এখন হচ্ছে আমাদের দেশ গঠনের পালা, এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পালা।”
এই রাজনীতিকে কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে, সে জন্য সজাগ থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
“সেজন্যই আমরা একটি কথা বলে থাকি করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এটাই হোক আজকের এই জনসভার আমাদের প্রতিজ্ঞা। আসুন সামনের দিন দেশ গড়ার রাজনীতি, সামনের দিন মানুষের ভাগ্য বদলের রাজনীতি।”
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়।
চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন রুমা আখতার, নাজমা বেগম ও তাসলিমা- এই ১০ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর ল্যাপটপের বাটন টিপে চাঁদপুর ও অন্য ২০টি জেলার ১৫ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তার অর্থ (আড়াই হাজার টাকা) হস্তান্তর করেন সরকারপ্রধান।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে সামবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
চাঁদপুরে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল-ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী তার সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল আহমেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ বেগম হীরা, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম বক্তব্য রাখেন।
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া রুমা আখতার ও মনোয়ারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) উপস্থিত ছিলেন।