০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরে ২ পোশাক কারখানায় ভাঙচুর

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকরা এদিন আবারও সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 07:51 PM

Updated : 02 Nov 2026, 07:51 PM

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে অন্তত দুটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মিরপুর-২ নম্বরের বড়বাগ এলাকায় সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলস নামের দুটি কারখানায় ভাঙচুর করা হয়।

কারখানা ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনা শুনে কারখানাগুলোতে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটির অভ্যর্থনা কক্ষের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।

সেখানে থাকা সিসিটিভি মনিটর, চেয়ার-টেবিল, কক্ষের কাচ ও শ্রমিকদের ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। সিঁড়ির পাশের কাচও ভাঙা দেখা গেছে। কারখানার চারতলাতেও ভাঙচুর করা হয়েছে।

এসময় কাচের আঘাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর হাত কেটে গেছে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “এক থেকে দেড়শ লোক এসে কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানার কাচ ও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ভেঙেছে।”

কারখানাটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের শ্রমিকরা কাজ করছিল। হুট করেই বাইরে থেকে আসা শতাধিক লোকজন এখানে হামলা ও ভাঙচুর করে। তারা যখন আসে, তখন আমাদের কারখানার শ্রমিকদের নামিয়ে দিই। তারপরও তারা ভাঙচুর চালায়।”

কারা এবং কী কারণে ভাঙচুর চালিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীরা সব কারখানা বন্ধ রাখতে চাইতে পারে। কোনো কারখানা চালু থাকলে এবং সেখানকার শ্রমিকরা আন্দোলনে না গেলে, অন্য শ্রমিকরা সেখানে হামলা বা ভাঙচুর চালাতে পারে বলে তাদের ধারণা।

“আমাদের এখানেও হয়তো তাই হয়েছে। আমাদের এখানে যারা এসেছিল, তাদের অনেকের গলায় আইডি কার্ড দেখেছি। তবে ভাঙচুরে আমাদের কারখানার শ্রমিকরা ছিল না।”

Image

ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডে ভাঙচুরের আগে পাশের দেশওয়ান অ্যাপারেলসের সামনে যায় বিক্ষুব্ধ একটি দল।

কারখানাটির সামনে অবস্থান নিয়ে কাজ করতে থাকা শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন ইট ছুড়লে কারখানাটির সামনের অংশের দুই জায়গার কাচ ভেঙে যায়।

দুপুর আড়াইটার দিকে দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ বলেন, “আমাদের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে তারা ইট দিয়ে ঢিল মেরে কাচ ভেঙেছে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিকরা নেমে এসে কারখানা ভাঙচুরে বাধা দেয়। তখন তারা সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন কারখানার দিকে চলে যায়।”

দেশওয়ানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ভাঙচুরকারীদের ‘টোকাই’ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, “যারা এসেছিল, তারা কেউই আমাদের শ্রমিক নয়। আমরা কাজ চালু রেখেছিলাম, কারণ শিপমেন্ট ও শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। কাজ না চললে শিপমেন্ট মিস হবে।”

তার ভাষ্য, এ বিষয়টি শ্রমিকরাও জানেন বলেই তারা কাজে এসেছেন এবং কারখানা রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন।

“ওরা চলে যাওয়ার পরই আমরা আবার কাজ শুরু করে দিয়েছি।”

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম, যিনি ক্রাইম অ্যান্ড প্রিভেনশন উত্তরের দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি বলেন, শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠনের পর বিষয়টি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় রাস্তা বন্ধ করা, সড়ক অবরোধ, গাড়ি বা কারখানায় ভাঙচুরের কোনো কারণ তারা দেখছেন না।

এদিকে বিকাল ৩টার দিকে মিরপুর সেকশন-৭-এর শিল্প এলাকায় গিয়ে অন্তত ছয়টি কারখানার সামনে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে কাজ বন্ধ রয়েছে এবং কারখানাগুলোর ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে।

সুমন ফ্যাশন, মদিনা ফ্যাশন, এফএফএ ফ্যাশন ও মহুয়া ট্রেডার্সের সামনের এক চায়ের দোকানদার বলেন, শ্রমিকরা সকালে কারখানায় এসে হাজিরা দিয়ে বের হয়ে গেছেন।