Published : 01 Jul 2026, 02:54 PM
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের ‘অবৈধ সম্পদের’ মামলায় আরও ছয়জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের সাক্ষ্য শোনেন।
সাক্ষীরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর মহাদেবপুরের সাব রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম, ভোলার চরফ্যাশনের সাব রেজিস্ট্রার কাওসার খান, ঢাকার বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম ও বন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মামলাটিতে ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে।
১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। তাতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ হয় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
সম্পদ বিবরণী হিসাব করে দুদক দেখেছে বেনজীরের বৈধ আয়ের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এই হিসাবে তার ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ বা ঘোষিত উৎস দুদক পায়নি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, “বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।”
গত ৮ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আর ৩ মে অভিযোগ গঠন করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মামলার বাদী হাফিজুল ইসলাম গত ১৩ মে সাক্ষ্য দেন। এরপর ২০ মে চারজন, ২৩ জুন আরও চারজন সাক্ষ্য দেন।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন বেনজীর। তার আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছিলেন র্যাবের মহাপরিচালক। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসরে যান।
২০২৪ সালের তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করার পর খবর আসে, বেনজীর তার স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে আগেই দেশত্যাগ করেছেন। পরে আদালতের আদেশে তার নামে ইন্টারপোলের রেডে নোটিস জারি করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে জানান, ওই রেড নোটিসের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।