Published : 03 Apr 2026, 01:06 AM
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে তুলতে গিয়ে আগের আইনগুলোর পুরো কপি ছাপতে হলে প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ হবে। এ কারণে খরচ সাশ্রয়ে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ কোডে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, এর মধ্যে শুধু সিভিল প্রোসিডিউর কোড বা সিপিসির কপি দিতেই লাগবে প্রায় সাত লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর এ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “সংশোধনী বিলের সঙ্গে আগের পুরো আইনের ফটোকপি দিতে গেলে বড় অঙ্কের ব্যয় হবে। তাই খরচ কমাতে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ কোডে দেখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
“আমরা পুরা বিল আনছি কিন্তু বিলের সাথে পূর্ববর্তী আইনের ফটোকপি দিতে গেলে ১২ লাখ টাকা লাগবে। এখানে পূর্ববর্তী আইনটা আমরা ওয়েবসাইটের থেকে নিতে বলেছি।”
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “পুরনো পুরো আইন না দিলেও সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর তুলনামূলক বিবরণ দিলে সংসদ সদস্যদের জন্য বিষয়টি বোঝা সহজ হবে।
“আগে কি ছিল আইন? আর কি সংশোধন আপনারা আনতে চান? এ ধরনের একটা স্টেটমেন্ট দিলে সদস্যদের জন্য বিবেচনা করতে সুবিধা হবে বলে আমি মনে করি।”
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “পুরো বিলটা দেব। আর কম্পারেটিভ স্টাডি যেভাবে আপনি বলেছেন ওইভাবে দেব।”
এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শুধু সংশোধনী প্রস্তাব সামনে থাকলে মূল আইনের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন হবে। এখানে শুধু প্রস্তাবনাটা এসেছে কিন্তু মূল বিল কি ছিল সেটা এই মুহূর্তে আমাদের সামনে নাই। যদি মূল বিলটা না থাকে তাহলে পরিবর্তনটা কি আসলো সেই তুলনা তো করতে পারব না।”
জবাবে স্পিকার বলেন, “যে ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে, তার সঙ্গে কী পরিবর্তন হচ্ছে, সেটি পরিষ্কারভাবে সদস্যদের সামনে তুলে ধরা হবে। প্রয়োজনে সংসদেই তা ব্যাখ্যা করা হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে তোলার প্রক্রিয়ায় কোন কোনটি হুবহু, কোনটি আবার সংশোধন করে এবং কোনটি এখনই না আনার সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।
সেই প্রতিবেদন উপস্থাপনের পরই বিলের সঙ্গে আগের আইন সংযুক্ত করা এবং সদস্যদের হাতে কী ধরনের সহায়ক নথি দেওয়া হবে, তা নিয়ে এই আলোচনা হয়।