Published : 20 Apr 2026, 12:06 AM
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের চেয়ে ‘কয়েক গুণ বেশি’ দাম নেওয়ার যে অভিযোগে উঠেছে, তা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ ক্রয়ের কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না, বলেছে সংসদ সচিবালয়।
রোববার সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিক ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাজারদরের তুলনায় ‘কয়েক গুণ বেশি’ দামে ক্যামেরা, লেন্স, মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি, ফ্ল্যাশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকার যে সেট কেনা হয়েছে, তার প্রকৃত বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকার কম।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, এ কেনাকাটার দরপত্রে এক ব্র্যান্ডের কথা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অন্য ব্র্যান্ডের পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহের কথা থাকলেও ‘১৯ দিনের মধ্যেই’ তা বুঝে নেওয়া হয়।
সরঞ্জাম সরবরাহকারী সেফ ট্রেডার্সের জেনারেল ম্যানেজার পরিচয়দানকারী মিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, “দামি ব্র্যান্ডের মালামাল দেওয়ায় দাম বেশি পড়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট, ট্যাক্স রয়েছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদ সচিবালয়ের এটাই প্রথম কেনাকাটা। গেল ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু হয়। সরবরাহ প্রতিষ্ঠানকে কেনার আদেশ দেওয়া হয় ২৫ মার্চ, সরবরাহ করা হয় ১৫ এপ্রিল।
কার্যাদেশে স্বাক্ষরকারী সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মহিদুল হকের বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, “কেনাকাটা নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে এসব হয়েছে। আমি সংসদ সচিবালয়ে নতুন এসেছি। পদাধিকারের কারণে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। তবে এসব প্রক্রিয়া আমি যোগদানের আগেই হয়েছে।”
সংসদ সচিবালয়ের সাবেক সচিব কানিজ মাওলার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।