Published : 16 Jul 2026, 04:51 PM
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের করা মামলায় বিটিএমসি বস্ত্র অধিদপ্তরের (কারিগরি) সহকারী পরিচালক ফয়সাল কবির সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আগামী ১৭ অগাস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন রাখার তথ্য দিয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, এ মামলায় ২৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
সংস্থার উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম, তাতে জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
এর মধ্যে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে। ব্যয় বাদে তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বর্হিভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন বলে প্রতিয়মান হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
গত ৮ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর গত ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।