Published : 09 Jul 2026, 08:51 PM
জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের পর অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের মধ্যে কথাবার্তা বেড়ে গেলে আস্তে কথা বলতে বলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “একটু আস্তে কথা বলি আমরা, এটা সংসদ।”
নওগাঁ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (৩ নম্বর) উত্থাপন করেন। তার প্রস্তাব ছিল, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হোক।
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্যরা নিজেদের নির্বাচনি এলাকার হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জবাবে বলেন, সরকার দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুধু শয্যা বাড়ানো নয়, প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ল্যাব সুবিধা, নতুন অ্যাম্বুলেন্স এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর ১০০ হাসপাতালে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে।
এরপর ইকরামুল বারী টিপু বলেন, সরকার যেহেতু ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার প্রস্তাব আর কার্যকর থাকবে না।
তবে তিনি মান্দার পুরনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা, শিশু রোগীর চাপ এবং চিকিৎসকদের প্রেষণে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, শুধু ৫০ শয্যাকে ১০০ বা ১০১ শয্যা করা বড় বিষয় নয়, সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোগত উন্নয়ন দরকার।
তার বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দুটি বিষয় স্পষ্ট করতে বলেন—উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা ও প্রেষণে থাকা চিকিৎসক।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক, হেলথ সেন্টার, ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টার, ১০ শয্যা ও ২০ শয্যার হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে উন্নত অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
প্রেষণে বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, “১৭ বছরের জঞ্জাল আমরা রাতারাতি দূর করতে পারব না।”
পর্যায়ক্রমে প্রেষণ বাতিল করে উপজেলায় চিকিৎসক দেওয়া শুরু হয়েছে, বলেন মন্ত্রী।
পরে ইকরামুল বারী টিপু তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের অনুমতি নিয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়।
এরপর কক্ষে সংসদ সদস্যদের মধ্যে কথাবার্তা বেড়ে গেলে ডেপুটি স্পিকারকে বলতে শোনা যায়, “একটু আস্তে কথা বলতে বলেন না।”
এর পর চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “মাননীয় চিফ হুইপ...আপনি নিজেও চেষ্টা করছেন। একটু আস্তে কথা বলি আমরা। দিস ইস পার্লামেন্ট।”
এরপর দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নম্বর ৪ নিয়ে আলোচনা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর অনুরোধে স্থগিত করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নম্বর ৫ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।