Published : 11 Feb 2026, 03:32 PM
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যে জামায়াত নেতা আটক হয়েছেন, তার ‘টাকার ব্যাগ’ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরেও শনাক্ত হয়েছিল।
পরে কাস্টমসের অনাপত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রায় অর্ধকোটি টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করার কথা জানান নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অসুস্থবোধ করায় পরে বেলালকে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম। তিনি ঠাকুরগাঁও সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক।

তিনি বেলা ১১টার দিকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে টাকার ব্যাগ নিয়ে সৈয়দপুরে যান। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের স্ক্যানিংয়ে তার ব্যাগে টাকা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
ঢাকা থেকে যাওয়া যাত্রীর ব্যাগ সৈয়দপুরে ধরা পড়ল, কিন্তু ঢাকার বিমানবন্দরে কেন ধরা পড়ল না, এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, ঢাকাতেও তার ব্যাগে টাকা থাকার বিষয়টি ধরা পড়েছিল।
“বিষয়টি বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে তারা এতে অনাপত্তি জানান। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।”
বিকেলে এই বক্তব্যের আরেকটি ব্যাখ্যা পাঠান রাগীব সামাদ।
তিনি বলছেন, “অভ্যন্তরীণ রুটের টাকা বহনের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই, কোন সিলিং (সর্বোচ্চ সংখ্যা) সেট করা নেই। সেক্ষেত্রে যেকোনো পরিমাণ অর্থই যে কেউ ক্যারি করতে পারে। আবার অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ বহনের ক্ষেত্রে কিন্তু কাস্টমসেরও কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে কাস্টমসের কাজগুলো অ্যাঙ্গেইজড।
“তবুও এক্ষেত্রে যেহেতু অ্যামাউন্টটা বড় ছিল, তাই আমরা কাস্টমসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। যেহেতু এখানে (অভ্যন্তরীণ রুটে) কাস্টমসের ইনভলবমেন্ট নেই, তারা বলেছে যে- এখানে তাদের কোনো আপত্তি নেই।”
নির্বাহী পরিচালক রাগীব সামাদ বলেন, “কাস্টমসের ক্লিয়ারেন্সের পরিপ্রেক্ষিতেই এটাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টা এমন নয়। বিষয়টা হচ্ছে- যেহেতু এই বেশি পরিমাণ অর্থ গিয়েছে, আমরা আইডেন্টিফাই করেছি এবং আমরা শুধু তাদের কাছে ভেরিফাই করে নিয়েছি। এই পরিবহনে কোনো বাধা দেওয়ার বিষয় ছিল না বা আমাদের কাছে কোনো ইন্সট্রাকশন ছিল না- এটাতে বাধা দেওয়া যাবে কি যাবে না।”
এদিকে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন সাংবাদিকরা।
জবাবে জামায়াতের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, “আমার পকেটে টাকা আছে, আমাকে ধরতে যাবে কেন। অদ্ভূ প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছেন। এটা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কাজটা করা হচ্ছে।’’
তিনি বলেন, “আমরা তার মুক্তি চাই। অবিলম্বে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”