Published : 12 Oct 2025, 07:25 PM
মেয়েকে মারধরের মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে ফেঁসে গেছেন এক ব্যক্তি।
মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করায় আদালত তাকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইন রোববার এ আদেশ দেন।
সালাহউদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি তার মেয়েকে মারধরের অভিযোগ এনে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে মামলা করেন।
মামলায় তার শ্যালক মো. কাজল, কাজলের স্ত্রী রোকসানা বেগম, মেয়ে কসমিন আক্তার এবং তার আত্মীয় রবি মিয়া ও তার ভাই আশরাফুলকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সালাউদ্দিনের মেয়ে তারিনা আক্তার রুমি এবং কাজলের মেয়ে কসমিন আক্তার পড়াশোনার সুবাদে একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। কসমিন যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগের এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
গত ১০ জানুয়ারি রুমি বিষয়টি তার মামা কাজলকে জানিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামার পরিবারের লোকজন তাকে ‘মারধর করে জখম করেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, রুমির মা, খালা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রুমির পরিবার থানায় মামলা করতে যায়। তবে থানা মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
পরদিন আদালতে মামলা করেন সালাহউদ্দিন। আদালত মামলা আমলে নেয়। পরে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলে, সালাহউদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানকার ডাক্তারি প্রতিবেদন দিয়ে ঢাকায় এই মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত হয়নি, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরাসরি আমলে নেওয়া হয়।
আসামিদের ‘হয়রানি’ করতে একই ডাক্তারি সার্টিফিকেট দিয়ে দুটি মামলা করার অভিযোগ এনে আসামিপক্ষের আইনজীবী বাদীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এবং আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে মামলার মেরিট বিবেচনার প্রার্থনা জানানো হয়।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে পর্যালোচনায় আদালত দেখে, গত ১৫ জানুয়ারি সালাহউদ্দিন যাত্রাবাড়ী আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত কোনো তদন্ত ছাড়াই অভিযোগ আমলে নেয়। তিনি ১০ তারিখের ঘটনা দেখিয়ে ওই মামলা করেন।
কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভিকটিমের বোন মেহরুন্নেছা সুমি গত ১৪ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে সরাইল আমলী আদালতে ৭ জানুয়ারির ঘটনা দেখিয়ে মামলা করে। দুই মামলাতেই বলা হয়, আসামিরা ভিকটিমের বাঁ হাতে, ডান চোখের উপর আঘাত করেন। ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে ‘গলা টিপে ধরে’ মুখে ও চোখে কিল ঘুষি মেরে আহত করা হয়। ভিকটিমের চোখে রক্তাক্ত জখম হয়।
চিকিৎসার কাগজপত্র পার্যালোচনায় দেখা যায়, চিকিৎসা স্লিপে ইনজুরির কোনো নোট নাই। ভিকটিমের সাধারণ জখমের কয়েকটি ছবি আছে। এই আদালতে জবানবন্দিতে ভিকটিম দাবি করেন, দুটি ঘটনায় তার ডান চোখে, মুখে ও নাকে আঘাত করা হয়। বর্তমানে ভিকটিমের মুখে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। চোখের ডাক্তারের কোনো প্রেসক্রিপশন নাই। দুটি ঘটনা গত ৭ জানুয়ারি এবং ১০ জানুয়ারির বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।
সার্বিক পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পায়, মামলার উভয়পক্ষের ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে বিয়ে নিয়ে বিরোধ আছে। আদালতে অভিযোগকারী ঢাকার ঘটনার বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।
মামলাটি ‘হয়রারিমূলক’ প্রতীয়মান হওয়ায় আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন বিচারক। ‘মিথ্যা ঘটনা সৃষ্টি করায়’ সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ১২ অক্টোবরের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেয় আদালত।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আজ সালাহউদ্দিন আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি ভুল বুঝতে পেরেছেন মর্মে আদালতকে জানান। আসামিদের সাথে আপস হওয়ায় উভয়ের পরিবার পরস্পরের বিরুদ্ধে করা ১০ মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
“মামলা প্রত্যাহার করায় এবং বাদী অনুতপ্ত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে অপেক্ষাকৃত লঘুদণ্ডে দণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেন বিচারক। তাকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন, অনাদায়ে তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।”