১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জনগণের শিক্ষক’ যতীন সরকার দিশারী হয়ে থাকবেন: গণশিক্ষা উপদেষ্টা

“আজ তার মৃত্যুতে আমরা শুধু একজন ব্যক্তিকে হারাইনি, হারিয়েছি এক আদর্শকে, এক দর্শনকে, এক অনুপ্রেরণাকে,” বলেন বিধান রঞ্জন।

‘জনগণের শিক্ষক’ যতীন সরকার দিশারী হয়ে থাকবেন: গণশিক্ষা উপদেষ্টা
যতীন সরকারের প্রতিকৃতি: গৌতম কুমার দেবনাথ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2025, 11:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

প্রগতিশীল বাম ধারার বুদ্ধিজীবী, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক শিক্ষক যতীন সরকারকে ‘জনগণের শিক্ষক’ আখ্যায়িত করে তার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। 

তিনি বলেছেন, যতীন সরকার তার লেখার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও দিশারী হয়ে থাকবেন।

বুধবার বিকালে দেওয়া এক শোকবার্তায় এসব কথা বলেন গণশিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রগতিশীল চিন্তাধারার অন্যতম উজ্জ্বল বাতিঘর, লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের ইতিহাসের ভাষ্যকার, জনগণের শিক্ষক অধ্যাপক যতীন সরকারের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক ও বেদনার সঙ্গে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।” 

বুধবার বেলা পৌনে ৩টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে যতীন সরকার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

এক সময় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে থাকা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক বিধান রঞ্জন বলেন, “অধ্যাপক যতীন সরকার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক চিন্তানায়ক, যিনি সমাজের প্রতিটি স্তরে যুক্তিবোধ, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার বীজ বপন করেছেন। 

“তার রচিত গ্রন্থসমূহে যেমন গভীর মননশীলতা প্রতিফলিত হয়েছে, তেমনি তার বক্তৃতা ও লেখনীতে বারবার উঠে এসেছে সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবমুক্তির স্বপ্ন।”

৬০-এর দশক থেকে অধ্যাপক যতীন সরকার ময়মনসিংহ শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “তার অসাধারণ বাগ্মিতা, যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ এবং সাহসী অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি জ্ঞানের আলোকে সমাজকে আলোকিত করতে চেয়েছেন এবং সেই চেষ্টায় কখনো পিছপা হননি। 

“তিনি শিক্ষকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে আজীবন যুক্ত ছিলেন। তিনি তার লেখার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও দিশারী হয়ে থাকবেন।”

অধ্যাপক বিধান রঞ্জন বলেন, যতীন সরকারের প্রকৃত সম্মান নিহিত ছিল মানুষের হৃদয়ে—যেখানে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, একজন পথপ্রদর্শক, একজন বন্ধু।

“আজ তার মৃত্যুতে আমরা শুধু একজন ব্যক্তিকে হারাইনি, হারিয়েছি এক আদর্শকে, এক দর্শনকে, এক অনুপ্রেরণাকে। তার জীবন আমাদের শেখায়—কীভাবে যুক্তি, মানবতা ও সাহসিকতার সঙ্গে সমাজের মুখোমুখি হতে হয়। তার স্মৃতি আমাদের চিন্তাজগতে চিরকাল জাগ্রত থাকবে এবং তার আদর্শ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।”