১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আরও চার বছর রেয়াল মাদ্রিদের সিংহাসনে পেরেস

রেয়াল মাদ্রিদের সভাপতি পদে ২০ বছরের মধ্যে প্রথম নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেস।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jun 2026, 10:34 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:21 PM

দুই প্রার্থীর কথার লড়াই ছিল তুমুল, প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস ছিল বেশ। তবে গর্জন যতটা হলো, বর্ষণ ততটা নয়। শেষ পর্যন্ত বেশ বড় ব্যবধানেই নির্বাচনে জিতে গেলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেস। আরও চার বছর রেয়াল মাদ্রিদের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন এই ব্যবসায়ী।

রেয়ালের সভাপতি নির্বাচনে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভোটাভুটি হলো রোববার। সেখানে ২১ হাজার ৭৪১ ভোট পান পেরেস, যা মো ভোটের ৬৫ শতাংশ। তাকে চ্যালেঞ্জ জানানো এনরিকে রিকেলমে পান ১১ হাজার ৮১৪ ভোট।

পেরেস প্রথমবার রেয়ালের সভাপতি হন ২০০০ সালে। ২০০৬ সালে পদত্যাগ করেন তিনি এবং নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে হেরে যান র‌ামন কালদেরনের কাছে। পরে ২০০৯ সালে কালদেরনের পদত্যাগের পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবার সভাপতি পদে ফেরেন তিনি। সেখান থেকেই টানা এই দায়িত্বে আছেন এবং থাকবেন ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

২০০৯ সালের পর ২০১৩, ২০১৭, ২০২১ ও গত বছরও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি রয়ে যান তিনি। তবে টানা দুই মৌসুমে ক্লাব কোনো ট্রফি জিততে না পারায় নানা সমালোচনার মুখে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে চমক উপহার দেন ঝানু এই সং    গঠক। ৭৯ বছর বয়সী পেরেসকে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ জানান ৩৭ বছর বয়সী রিকেলমে। কিন্তু দুই সপ্তাহের নির্বাচনি প্রচারের পর পেরেসের শ্রেষ্ঠত্বই শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হলো আরেকবার।

তার সভাপতির দায়িত্বে থাকার সময়টায় সাতটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও সাতটি লা লিগা জিতেছে রেয়াল। তার সময়েই ক্লাবের স্টেডিয়াম সংস্কার করে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই সময়ে ক্লাবের আর্থিক ভিত মজবুত হয়েছে প্রবলভাবে। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৯ কোটি ইউরো রাজস্ব আয় করেছে রেয়াল এবং ফোর্বসের মূল্যায়নে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৭৫ কোটি ডলারে, যা বিশ্ব ফুটবলে সর্বোচ্চ।

নির্বাচনের প্রচারে এবার দুই প্রার্থীই নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পেরেস বেশ আগেই ঘোষণা করেছিলেন, দলের কোচ হিসেবে জোসে মরিনিয়োকে ফিরিয়ে আনবেন তিনি এবং লিভারপুর ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতেকে ফ্রি ট্রান্সফারে চুক্তিবদ্ধ করবেন। পরে নিশ্চিত করেন, ইন্টার মিলানের উইং-ব্যাক ডেঞ্জেল ডামফ্রিসকেও নিয়ে আসবেন তিনি। 

রিকেলমের পক্ষ থেকেও ছিল প্রতিশ্রুতির জোয়ার। নির্বাচিত হলে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আর্লিং হলান্ড ও রদ্রিকে দলে নেওয়ার কথা বলেন তিনি এবং এই দুজনকে আনতে ব্যর্থ হলে এক বছরের জন্য ক্লাবের সদস্যপদ ফি পরিশোধ করার অঙ্গীকার করেন। 

ক্লাবের অনুশীলন কেন্দ্র ভালদেবেসাকে একটি সোশাল হাব-এ পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যেখানে হোটেল, সুইমিং পুল, একটি জিম এবং রেয়াল মাদ্রিদের বাস্কেটবল দলের জন্য ১৫ হাজার আসন বিশিষ্ট একটি অ্যারেনা থাকবে, যেখানে কনসার্টও আয়োজন করা যাবে।

পেরেস পরে চমক উপহার দিয়ে জানান, নির্বাচিত হলে এবারের গ্রীষ্মে একজন ‘গ্যালাকটিকো’ ফুটবলারকে দলে নেবেন তিনি, যার পেছনে খরচ হতে পারে ক্লাবের রেকর্ড ১৫ কোটি ইউরো (প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার)। সেই ফুটবলারের নাম অবশ্য খোলাসা করেননি তিনি।

পাল্টা হিসেবে রিকেলমে জানান, তিনি সভাপতি হলে কোচ করে আনবেন লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপকে।

তার প্রচারণার একটি লক্ষ্যবস্তু ছিল গত নভেম্বরে পেরেসের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবও, যেখানে একটি সহায়ক সংস্থা তৈরির কথা বলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বাইরের বিনিয়োগকারীরা ক্লাবের প্রায় ৫ শতাংশ শেয়ার কিনতে পারবেন। রিকেলমে বলেছেন যে, তিনি এই পরিকল্পনা “তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান” করেন এবং ক্লাবকে ‘বেসরকারীকরণের’ অভিযোগ করেন তিনি পেরেসের বিরুদ্ধে।

জয়ের পর উচ্ছ্বসিত পেরেস বলছেন, এটি ক্লাবেরই জয়। নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়ও শোনালেন তিনি। 

“আমরা রিয়াল মাদ্রিদের (নির্বাচনের) ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা ফলাফল অর্জন করেছি। এটি একটি অসাধারণ ফলাফল... আজ রেয়াল মাদ্রিদ জিতেছে। বিশ্বকে গণতন্ত্রের একটি উদাহরণ দেখিয়েছি আমরা।”

“রিয়াল মাদ্রিদের ট্রফি জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাব... যারা অংশগ্রহণ করেছেন, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একসঙ্গে আমাদের আরও অনেক ইতিহাস গড়ার বাকি আছে।”

ক্লাবের শেয়ার বিক্রির বিতর্ক নিয়ে পেরেস জানান, রেয়ালের ‘সদস্য-মালিকানাধীন’ মডেলটি অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং সদস্যপদের ‘একটি বাস্তব ও সুস্পষ্ট মূল্য’ থাকবে। ক্লা

বের বিধিতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে বিশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে ক্লাবের শেয়ার বিক্রির বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন রিকেলমে।

“এই বিজয়ের জন্য আমি ফ্লোরেন্তিনো পেরেসকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমি সেই সব সদস্যকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের কথা শুনেছেন এবং ২০ বছর পর ভোট দেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন আমাদের ‘রেড লাইন’ অর্থাৎ ক্লাব বিক্রির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে... আমরা জানি যে, রেয়াল মাদ্রিদ বিক্রির জন্য নয়।”