Published : 11 Dec 2025, 04:08 PM
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ সচিবালয় উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, “আজকে আমরা প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমাদের নিজেদেরকে আমরা পাচ্ছি। এইখানে যাদেরকে দেখছেন আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতায় আমরা তাদের এইডে এবং স্টেকহোল্ডার হিসেবে আমরা কিন্তু কালেক্টিভভাবে এই সচিবালয় আমাদের প্রাপ্তি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “২৬ বছরের যাত্রা। কিন্তু এটিই এখানে শেষ হলো না। আমাদের এখন সবচেয়ে বড় যে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটা হচ্ছে এই সচিবালয়ের কার্যক্রম। এই যে ক্ষমতা, আমাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা বিচারকার্য পরিচালনা করা এবং বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করা—সেটা কিন্তু সবকিছু কনসেন্ট্রেটেড হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টের কাছে।
“এটার সাফল্য যতটা আমাদের অর্জন হবে, এটার ব্যর্থতাও কিন্তু আমাদের মেনে নিতে হবে। তো সেই দিক থেকে আমি সবার কাছে আমার আহ্বান রইল, আগামীতে যে নির্বাচিত সরকার আসবেন, তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার আছে- তাদের সবাইকে এই যে ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা, এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।”
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “আজকে বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটা ঐতিহাসিক দিন। আজকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় স্থাপন করা হলো।

“…এখন এটা প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের মানুষের লাভ কী? লাভটা হচ্ছে আপনারা আগে সবসময় শুনতেন যে অধস্তন আদালত যে আছে, ট্রায়াল কোর্ট আছে সেগুলোতে রাজনৈতিক সরকারের মন্ত্রীরা ছিল, বিশেষ করে আইনমন্ত্রীর কথা বেশি শোনা যেত। উনারা অনেক ধরনের খবরদারিত্ব করতেন। কে জামিন পাবে, কে জামিন পাবে না, কী রায় হবে, কীভাবে রায় হবে না—এই সমস্ত কিছু, কোন মামলাটা আগে শুনানি হবে, কোন মামলা হবে না, বিচারকদের পোস্টিং, পদোন্নতি, বদলি—সমস্ত কিছু রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন আর এই রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না।”
বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার বিভাগের দাবি কয়েক যুগ ধরে বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছিল। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও সভা-সমাবেশের মধ্যে ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন ও তার সহকর্মীরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবিতে মামলা করেন।
সেই মামলায় ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত রায় দেয়।
সেই রায়ের ২৬ বছর পর বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার পদক্ষেপ গত ২০ নভেম্বর সরকারের অনুমোদন পায়।
এরপর গত ৩০ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে। এ অধ্যাদেশে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
এ অধ্যাদেশ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, ছুটির পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের সব কিছু সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় করবে।