Published : 19 May 2026, 12:41 AM
স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌর, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ।
এমন পরিস্থিতিতে আইন-বিধি সংস্কার করে পাঁচ মাসের মধ্যে ভোটের প্রস্তুতি সাড়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন মাস পার হলেও স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনের কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেও হয়নি স্থানীয় সরকারের ভোট।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ইসির আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটি এক দফা বৈঠক করেছে।
রোববার এ কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা একদফা বসেছি, কিছু তথ্য তাদের কাছে চেয়েছি। কিছু পেয়েছি, আরও কিছু তথ্য লাগবে। সামনে আবার বসব।”
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি করপোরেশনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে; পাশাপাশি উপজেলা পরিষদে জামানত বেশি রয়েছে কিনা, পর্যালোচনা করতে চায় ইসি।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী—
>> সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার পাঁচ লাখ পর্যন্ত হলে মেয়র প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা। পাঁচ লাখের পর থেকে ১০ লাখ ভোটার হলে ৩০ হাজার টাকা, ১০ লাখ এক থেকে ২০ লাখ ভোটার হলে ৫০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখের বেশি ভোটার হলে এক লাখ টাকা জামানত দিতে হয়।
>> সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের ক্ষেত্রে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নির্ধারণ করা আছে। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল পদের জন্য জামানত ধরা আছে ১০ হাজার টাকা।
>> পৌরসভা নির্বাচনে ২৫ হাজার ভোটার পর্যন্ত জামানত ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার ১ থেকে ১ লাখ ভোটারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কাউন্সিলর পদে জামানত পাঁচ হাজার টাকা।
>> ইউপি চেয়ারম্যান পদে পাঁচ হাজার টাকা এবং সদস্য পদের জন্য এক হাজার টাকা জামানত দিতে হয়।
>> জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং সদস্য বা মহিলা সদস্য পদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জামানত রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন ইসি জামানত বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তা আর এগোয়নি।
তবে ওই সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়।
সিটি করপোরেশনের জামানতের বিষয়ে ইসি মাছউদ বলেন, “আমরা বাড়াতে চাচ্ছি। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার বিধান বাতিলের চিন্তাভাবনা করছি।”
সংসদ নির্বাচনে যেহেতু পোস্টাল বন্ধ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের সব স্তরে পোস্টাল নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, “ভোটে পোস্টাল থাকবে না। যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন আবারও ফিরছে, সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সমর্থনসূচক যে স্বাক্ষরের বিধান এখনও রয়েছে, তা বাদ দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে কাজ চলছে। জামানতের বিষয়ে স্থানীয় সরকারের স্তরগুলোয় সমতা রাখার চেষ্টা করছি।”
উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে এক লাখ জামানত রয়েছে, তা রাখা যুক্তিযুক্ত কিনা, কিংবা কমানো যায় কিনা, সে চিন্তাভাবনাও আছে বলে তিনি জানান।

অক্টোবরে প্রস্তুতি শেষে ভোটে যেতে চায় ইসি
এ বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার বিষয়ে আভাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, পাঁচশ উপজেলা পরিষদ, পার্বত্য ছাড়া ৬১ জেলা পরিষদ ও ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকার থেকে বার্তা আসার পরেই নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয় সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে অক্টোবরে ভোট আয়োজনের কাজ ‘আরম্ভ করতে চায়’ নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, “সামনে বর্ষা মৌসুম; অক্টোবর পযন্ত বৃষ্টি থাকে। কমিশন পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিন্তাভানা করবে। স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এখন নির্বাচন প্রযোজ্য, যেটা বেশি প্রয়োজন, সেটা আগে করা হতে পারে।
“এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি কখন কোন নির্বাচন হবে। এ বছরের শেষের দিকে ভোট শুরু হয়ে যাবে।”
জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।
স্থানীয় নির্বাচনের কী কী বদলাতে চায় ইসি?
কী চ্যালেঞ্জ ছিল গেল ভোটে, আগামীর জন্য শুনছে ইসি
উপজেলার ভোটে বাড়ল জামানত, সহজ হল স্বতন্ত্র প্রার্থিতা
৩ কোটি টাকা খুইয়েছেন জামানত হারা ১৪৫৬ প্রার্থী
ভোটের ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ২৫ দল, বাকিরা পাচ্ছে আরও এক মাস