কী চ্যালেঞ্জ ছিল গেল ভোটে, আগামীর জন্য শুনছে ইসি
“বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগামীর জন্য এমন একটি প্রতিবেদন করে দিতে চায়, যেটা কাজে লাগবে,” বলেন ইসি সচিব।
গেল ফেব্রুয়ারিতে একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করতে গিয়ে একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ পার করেছে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নির্বাচন কমিশন।
এবার প্রথমবারের মতো দুই ব্যালটে ভোট হয়েছে; পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার হয়েছে দেশে ও প্রবাসে।
দুই মাস সময় রেখে তফসিল ঘোষণার পর সব কাজ গোছাতে হয়েছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় বেশ উদ্যোগ থাকার পরেও নিবন্ধিত অনেকেই ভোট দেননি।
দুই ব্যালটের গণণাও ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। পোস্টাল ব্যালট গণনা হয়েছে শুধু রিটার্নিং অফিসারের নির্ধারিত কেন্দ্রে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ফল ঘোষণায় লেগেছে ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা।
মাস তিনেক আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে; একই দিন হয়েছে গণভোটও। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করেছে। বিরোধী দলে রয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
এরমধ্যে ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, ২০২৬ এর আলোকে লব্ধ অভিজ্ঞতা ও করণীয়’ শিরোনামে কর্মশালা করছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার ও শনিবার কক্সবাজারে ভোটসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এ কর্মশালা হচ্ছে। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব থাকছেন।
জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলে একটা কর্মশালা করেছি। সবার সঙ্গে কথা বলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভিজ্ঞা জেনেছি।
“এরপর ঢাকায় ওয়ার্কশপ করা হয়েছে, যেখানে শহর ও মহানগরের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ জেনেছি। এবার তৃতীয় ধাপে কক্সবাজার কর্মশালা হচ্ছে; এতে উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি দুর্গম ও পার্বত্য এলাকার চ্যালেঞ্জ জানব।”
এসব কর্মশালায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ ভোটের আগের, ভোটের দিনের ও ভোটের পরের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মশালায় আলোচনা হচ্ছে।
নির্বাচনি সরঞ্জাম আনা-নেওয়া, মনোনয়নপত্র জমা, আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়, নেটওয়ার্ক সচল রাখা, ভোট গণনাসহ কেন্দ্রীয়ভাবে কাজগুলো করতে কী কী চ্যালেঞ্জ হয়েছিল, কী অভিজ্ঞতা হয়েছি এবং সামনের জন্য কী কী সুপারিশ করা যায়, সেসব বিষয়ও উঠে আসছে কর্মশালায়।
ইসি সচিব বলেন, এর আগে জাতীয় নির্বাচনের পর কোনো নির্বাচন কমিশনও পরবর্তী কমিশনের জন্য কোনো ‘ফুটপ্রিন্ট’ রেখে যায়নি। কোনো কোনো নির্বাচনি প্রতিবেদন হয়েছে শুধু সংখ্যাগত তথ্য দিয়ে। এসব প্রতিবেদনে ভোটার কত, কে কত ভোট পেয়েছে, কে জিতেছে বা কে হেরেছে, এসব তথ্য থাকত।
“বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি সংসদ নির্বাচন করেছে, সঙ্গে গণভোটও হয়েছে। এ ইসির অধীনে আরেকটি সংসদ নির্বাচন হবে না। সেক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগামীর জন্য এমন একটি প্রতিবেদন করে দিতে চায়, যেটা কাজে লাগবে। এ লক্ষ্যে আমরা মাঠের ও কেন্দ্রের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করছি, যেটা আগামীর জন্য কাজে দেবে, যে প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশও থাকবে।”
কী কী চ্যালেঞ্জ এসেছে?
এ এম এম নাসির উদ্দিনের কমিশন দায়িত্ব পায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। পরের বছরের শুরুতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করে তারা। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষ এলাকায় ছিল বিশেষ নজর।
পুরো সময়ে তিন ধাপে ভোটার তালিকায় হালনাগাদের কাজ চলে। আইনসংস্কার নিয়ে দফায় দফায় বসতে হয়েছে; সীমানা পুনঃনির্ধারণ ও দল নিবন্ধন কাজ শেষ করতেও বেগ পেতে হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে যোগ হয় গণভোট। এরমধ্যে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট অন্তর্ভুক্ত হয়। আইন সংস্কার, নতুন আচরণবিধি ও তার ভিত্তিতে ভোটের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হয় ১২ ফেব্রুয়ারি।
জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, “পোস্টাল ব্যালটের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। ভালোভাবে সব কিছু হয়েছে। কিন্তু নিবন্ধন করার পরও অনেকে ভোট দেননি। এ বিষয়ে কোথায় কোথায় উন্নতি করা যেত, বিষয়গুলো নিয়ে মতামত উঠে আসছে।”
তিনি বলেন, সংসদ ও গণভোটের ফল কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে। ভোটের আগে অনেকে বলেছিল, আরও বেশি সময় লাগবে।
“বাস্তবে ভোট গণনা ও দ্রুত ফল পাঠানোর ব্যবস্থাপনা আরো কীভাবে সুচারু করা যায়, সে বিষয়গুলোও তুলে ধরছে কর্মশালায়। পার্বত্য এলাকা, হওরাঞ্চল, উপকূল ও সমতলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। আগামীতে এ কাজে সমন্বয়ে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে আইন ও বিধিমালায় সংস্কার আনার ভাবনা রয়েছে কমিশনের।
“আইন-বিধি সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান নির্বাচন কমিশন মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গেও বসতে পারে সামনে। সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের কোনো সংস্কার করতে চাইলে আগামী নির্বাচন কমিশন এসব সুপারিশ, প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এগিয়ে নিতে পারবে,” বলেন ইসি সচিব।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান ইসির অধীনে সামনে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এ ধরনের কর্মশালা বেশ কাজ দেবে বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন-
