Published : 12 May 2026, 09:18 PM
আসন্ন কোরবানি ঈদের আগে যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য একটি বগি বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।
আজমল হোসেন বলেন, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের বিধান অনুযায়ী ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরার বিষয়টি বাস্তবায়নের দাবিতে করা একটি রুল বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় ঈদে নারীদের যাতায়াতের কষ্ট লাঘবে আদালতে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছে।
২০২১ সালে এ রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে রুল জারি করার কথা তুলে ধরে আজমল হোসেন বলেন, “সে সময় রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন প্রত্যেকটা ট্রেনে মহিলাদের আলাদা কামরা বরাদ্দ করা হবে না। এছাড়া শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য কেন আলাদা আসন বরাদ্দ করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।”
তিনি বলেন, এর আগে কয়েকটি ঈদযাত্রার সময় নারীদের জন্য কামরা বরাদ্দ থাকলেও সবশেষ রোজার ঈদে তা ছিল না।
“আগে ২০২২-২৩ সাল পর্যন্ত ইন্টারসিটি ট্রেনগুলোতে ঈদের মধ্যে নারীদের জন্য অন্তত একটি কামরা দেওয়া হত। কিন্তু লাস্ট রোজার ঈদে কোনো কামরা ছিল না। যে কারণে আমরা দেখলাম মহিলারা ট্রেনের ছাদে উঠছেন, কোনো স্বামী বা ভাই তার বোনকে কাঁধে করে নামাচ্ছেন।”
এটি তাদের আইনগত অধিকার হিসেবে বর্ণনা করে ওই আইনজীবী বলেন,, “১৩০ বছরের পুরাতন আইন। তারা ১৩০ বছর ধরে ‘ডিপ্রাইভড’ যে মহিলা কামরা পাচ্ছে না। এটা তো ঠিক না।”
আসন্ন ঈদে যাতে প্রত্যেকটা ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দেওয়া হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তুলে ধরেন তিনি।
আদেশে শিশুদের বিষয়টি আলাদাভাবে না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আদেশে শিশুদেরসহ দেওয়ার কথা প্রথমে বলা হলেও পরে আদালত বলেন, স্বামীর সঙ্গে শিশু থাকলে সে কার কাছে যাবে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে মহিলারাতো আর শিশু ছাড়া যাবেন না, শিশু নিয়েই যাবেন।”
১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে, প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলেও আইনে বলা আছে।
ওই কামরায় বিনা অনুমতিতে কেউ প্রবেশ করলে তাকে জরিমানা করার কথা বলা আছে আইনের ১১৯ ধারায়।
এই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে রিট আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন।
তখন প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ মার্চ হাই কোর্ট রুল জারি করে।
আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই বিচারাধীন রুলের ওপর ভিত্তি করেই মঙ্গলবার সম্পূরক আবেদনে নতুন এই আদেশ দিল আদালত।
ঈদযাত্রা: ট্রেনের আগাম টিকেট বুধবার থেকে, এবারও শতভাগ অনলাইনে