Published : 08 Jul 2026, 07:52 PM
শেরপুরে ২০১৩ সালে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফাঁসির রায় নিয়ে মারা যাওয়া আসামির দণ্ড হাই কোর্টে বহাল থাকার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন্স) নির্দেশনামূলক একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ জুলাই আইজি প্রিজন্স বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তি (মৃত আসামির দণ্ড বহাল রাখা) এড়াতে কারাগারগুলোতে নতুন দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কারা অধিদপ্তর।শেরপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কান্তি মারাকের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২ জুলাই রায় ঘোষণা করে হাই কোর্ট। রায়ে আদালত ওই আসামির দণ্ড বহাল রাখে।
পরে প্রকাশ পায় কান্তি মারাক পাঁচ বছর আগেই ২০২১ সালে কাশিমপুর কারাগারে মারা গেছেন। বিষয়টি নিয়ে ২ জুলাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এই আপিল শুনানি ও রায় ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে আইজি প্রিজন্স বরাবর পাঠানো অ্যাটর্নি জেনারেলের চিঠিতে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির আপিল বা ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হলে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক মৃত্যু সনদসহ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সলিসিটর উইং এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অবহিত করতে হবে।
আদালতের সময় ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধে চিঠিতে কনডেম সেলে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার সঙ্গে তাদের চলমান আপিল মামলার নম্বর মিলিয়ে দেখার জন্য দ্রুত একটি অডিট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর আমি আইজি প্রিজন্সকে চিঠি দিয়েছি। সেখানে বলেছি, কোনো কারণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি কারাগারের অভ্যন্তরে সাজা ভোগ করা অবস্থায় কিংবা কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় মারা যান, তবে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিশেষ করে আপিলকারী পক্ষ হিসেবে রাষ্ট্র তথা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সলিসিটর কার্যালয় কিংবা আদালতকে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।”
মৃত্যুর পর দণ্ড বহাল রাখার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেন, তার পক্ষে তো সেই আপিলের রায় বা সাজা কী হল, তার গুরুত্ব নেই। পরবর্তীতে মামলাটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কাছে এই তথ্যটি ছিল না।”
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে ফোন করে আমাদের বিষয়টি জানান হয়েছে। তবে আমরা এখনো ওই নির্দেশনামূলক অফিশিয়াল চিঠিটি হাতে পাইনি। আমাদের করণীয় সম্পর্কে সেখানে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা অবশ্যই তা অনুসরণ করব।”
কান্তি মারাকের মৃত্যুর তথ্য আদালতে না যাওয়াকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “২০২১ সালের ঘটনাটিতে কারা কর্তৃপক্ষ আরেকটু সচেতন হলে হয়ত যথাযথভাবে বিষয়টি জানানো সম্ভব হত। কারা কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠালেও দুর্ভাগ্যবশত সেটি হাই কোর্টে পৌঁছায়নি। মূলত বিচারিক আদালত পর্যায়েই এই ভুলটি হয়েছে।”
অতীতের ভুলের কারণ বিশ্লেষণ করে আইজি প্রিজন্স বলেন, “২০২১ সালে ঠিক কী ঘটেছিল তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আমার মনে হচ্ছে, ডেথ রেফারেন্সের নম্বর না পাওয়ার কারণে হয়ত তখন তারা চিঠিটি পাঠাতে পারেনি। সাধারণত জেল আপিল করা হলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুলিপি পাঠানো হয়।
“এখানে কেবল হাই কোর্টে কপিটি না পৌঁছানোর কারণে এই অনভিপ্রেত সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই সতর্ক থাকব এবং এটি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারা কর্তৃপক্ষের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত- উল ফরহাদ বলেন, “কারাগারে থাকা কোনো আসামির মামলা যদি হাই কোর্টে বিচারাধীন থাকে এবং সেখানে তার মৃত্যু ঘটে, তবে সেই মৃত্যুর তথ্য আদালতের পাশাপাশি সরাসরি হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার বা সহকারী রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে আমরা একটি দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। সারা দেশের সব কারাগার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতিমধ্যে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনামূলক চিঠির বিষয়ে জান্নাত বলেন, “এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোনো নির্দেশনা বা চিঠি আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। এটি যেহেতু একটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার বিষয়, তাই চিঠিটি আমাদের দপ্তরে পৌঁছাতে দু-চার দিন সময় লাগতেই পারে।”
আরও পড়ুন-