১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ

ঢাকার বাড্ডা, ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ভবনে ফাঁটল ধরার এবং পলেস্তরা খসে পড়ার খবর এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Nov 2025, 01:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

ছুটির দিনের সকালে শক্ত ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি, আতঙ্ক ছড়াল ঢাকাসহ সারা দেশে। 

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭ ।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে, কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্থায়ীত্ব ছিল ২৬ সেকেন্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অবশ্য ভূমিকম্পের মাত্রা দেখাচ্ছে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫। উপকেন্দ্র বলছে নরসিংদী থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ-পশ্চিমে।

ভূমিকম্পের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন বাসা থেকে বের হয়ে আসে। ঝাঁকুনিতে অনেকের বাসায় শেলফ ও টেবিল থেকে জিনিসপত্র পড়ে যায়।

কম্পন থামার পর পুরান ঢাকা, বাড্ডা, ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবনে ফাটল ধরার এবং পলেস্তরা খসে পড়ার খবর এসেছে। 

বংশালে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভবনের দেয়াল ধসে মারা গেছে দশ মাস বয়সী এক শিশু।

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের তিনতলা ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের চারতলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর ১০৫ নম্বর পুরো তছনছ হয়ে যায়। আমরা এসে দেখি, সব নিচে পড়ে আছে।"

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "বিভিন্ন জায়গায় খবর পেয়ে আমাদের টিম গেছে।"

কলাবাগানের লেক সার্কাস রোড, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, এলিফেন্ট রোড, মিরপুর, গুলশান, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায়, মানুষকে দ্রুত ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় কে কার আগে নামবেন তা নিয়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়।

নিচে নেমে অনেককে ভিডিও করতে দেখা যায়। এছাড়া সোশাল মিডিয়ায় কেউ কেউ বাসার দেওয়ার ফেটে যাওয়ার ভিডিও পোস্ট করেছেন।

ভূমিকম্পের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি।

বোর্ড জানিয়েছে, উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক ইমরান হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে ঘুমের মধ্যে শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করে অনেকেই বিচলিত হয়ে পড়েন। ভূমিকম্প টের পেয়ে অনেকেই বাসভবন থেকে বেরিয়ে পড়েন। অনেক ভবনে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ঘটনার এক ঘণ্টা বাদেও বাসায় ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শেলফ থালা-বাসন নিচে পড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি দেখতে কোনো জরুরি সাড়াদানকারী দলকে তিনি দেখেননি। মেরামতের জন্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

নিউ মার্কেট থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, তাদের থানা ভবনের ৩,৪ ও ৫ তলায় ফাটল ধরেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে চলছিল জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান স্থলে থাকা কয়েকশ মানুষকে দ্রুত খোলা স্থানে চলে যেতে দেখা যায়

পুরানা পল্টনে একটি ভবনের ৭ তলায় থাকা আবিদুর রহমান বলেন, “ভূমিকম্প হঠাৎ পুরো বিল্ডিং কেঁপে উঠে। দ্রুত নামব, তারও কোনা উপায় ছিলো না। দুই ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে এক কোনায় ছিলাম, আর আল্লাহকে স্মরণ করছিলাম। পরে শুনেছি সিঁড়িতে দিয়ে অনেকে নেমে নিচে রাস্তায় গেছেন।” 

ভূমিকম্পে আতঙ্ক আর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এসেছে ঢাকার বাইরে থেকেও। 

গাজীপুরে বিভিন্ন কারখানা থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বগুড়ায় ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় শহরবাসী মধ্যে। লোকজন বাসা ছেড়ে নিচে নেমে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। 

শেরপুরে ভূমিকম্পের সময় গাছপালা, ঘর দরজা এবং আসবাবপত্র কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।