Published : 11 Dec 2025, 12:23 AM
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ৬০ রিক্রুটিং এজেন্সির ১২৪ জনের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
বুধবার দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়ে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগ আনা হবে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ নিয়ে তারা মোট ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে।
বিভিন্ন অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেটের’ কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া৷ ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি করে দেশটি৷
ওই সময় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। ২০২২ সালে এক অফিস আদেশে এ খরচ নির্ধারণ করেছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়।
তবে সেখানেও নতুন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি এজেন্সির ‘সিন্ডিকেটই’ নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান নামে দুদক।
এর ধারাবাহিকতায় এর আগেও কয়েকটি এজেন্সির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। এবার আরও ৬০টি মামলা করতে যাচ্ছে দুদক।
৬০ এজেন্সির ১২৪ জন কারা
দুদক বলছে, নতুন করে যে এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে তাতে আসামি করা হবে ১২৪ জনকে।
তাদের মধ্যে আছেন- সরকার ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ আলী সরকার। এই এজেন্সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ৮৬৫৯ জন শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে মোট ১৪৫ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে।
দি গাজীপুর এয়ার ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ৩৯৬৩ জন শ্রমিক পাঠিয়ে ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ আনছে দুদক। আসামি করা হচ্ছে এ এম শাহীন আহম্মেদ (বাবলু) ও ফেরদৌস আহম্মেদ বাদলকে।
ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল ৭৮৫৯ জন শ্রমিক পাঠাতে ১৩১ কোটি ৬৩ লাক ৮২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করার অভিযোগে দুদক যে মামলাটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আসামি করা হবে রফিকুল ইসলামকে।
মেসার্স ঐশী ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ৮৪১২ জন শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে ১৪০ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগ থাকার কথা বলেছে দুদক। লিনা রহমানকে আসামি করে মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা বলেছে সংস্থাটি।
পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল ৭৮৪৭ জন শ্রমিককে পাঠাতে ১৩১ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি নিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। দুদক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে।
আল বোখারী ইন্টারন্যাশনাল ৭০৪৯ জন শ্রমিক পাঠাতে ১১৮ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে। এ মামলায় আসামি করা হচ্ছে—মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, মো. আতাউর রহমান ভূইয়া, মোহাম্মদ জাকারিয়া ভূঞা ও আব্দুর রহমানকে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড ৩৬০৩ জন শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৬০ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি আদায়ের কথা বলেছে দুদক। এই অভিযোগে করা মামলায় আসামি করা হচ্ছে রুহুল আমীন, শিউলী বেগম, মাসুম বিল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহেদী হাসানকে।

আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনাল ৭৪১২ জন শ্রমিক পাঠাতে ১২৪ কোটি ১৫ লাখা ১০ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করার অভিযোগে মামলার আসামি হচ্ছেন মোহাম্মদ আবুল বাসার ও মোহাম্মদ ফজলুর রহমান।
দি সুপার ইস্টার্ন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৬৮১৭ শ্রমিকের ক্ষেত্রে ১১৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। দুদক এ এজেন্সির শাহীন কবির ও হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড ৮০৭৬ শ্রমিক পাঠাতে ১৩৫ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে, এমন অভিযোগে আসামি করা হচ্ছে জামাল আবু জাঈদ, মোঃ সানাউল্লাহ ও মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে।
স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৬৯০৮ জন শ্রমিকের ক্ষেত্রে ১১৫ কোটি ৭০ লাখ ৯০ হাজার টাকা বাড়তি নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় আসামি করা হচ্ছে উত্তম কুমার রায়, পার্বতী কর্মকার ও সুমন কর্মকারকে।
পি.এন. এন্টারপ্রাইজ ঢাকা লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩৫১৬ শ্রমিক পাঠাতে ৫৮ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা ‘আত্মসাতের’ মামলায় আসামি করা হবে নূর মোহাম্মদ তালুকদার, শাহানাজ বেগম ও বেলাল হোসেন।
দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৪৪৩৯ শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে ৭৪ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগ থাকার কথা বলেছে দুদক। সংস্থা মাহবুব মিয়া, মোহাম্মদ বিন ইশাম ও মোঃ রিয়াদ হোসেনকে আসামি করে মামলা করতে যাচ্ছে।
আল খামিস ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ৩৭১৩ জন শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৬২ কোটি ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে রেজীয়া বেগমকে আসামি করে মামলা করতে দুদক।
দেশারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৪৮৩০ শ্রমিক পাঠাতে ৮০ কোটি ৯০ লাখ ২৫ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করার কথা বলেছে দুদক। সংস্থাটি সফিকুল ইসলাম, আসলাম খান, মো. শাহজাহান মিয়া, মোঃ মোসলে উদ্দিন, মোঃ মিজানুর রহমান, জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, মো. আক্তার হোসেন (নয়ন), মোঃ কাওছার আহমেদ ভূঁইয়া, রকিবুল ইসলাম রাকিব ও আকরাম খানকে আসামি করে মামলা করতে যাচ্ছে।
এসওএস ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৭৮৫৩ শ্রমিক পাঠাতে কোম্পানিটি ১৩১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে, সে কারণে দুদক রাশাদ আবেদীনকে আসামি করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ৭৯২৪ শ্রমিকের ক্ষেত্রে ১৩২ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে, এমন অভিযোগে মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ও মোঃ আল আমিনকে আসামি করে মামলা করত যাচ্ছে দুদক।
নিউ এজ ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ৮৮৭৩ শ্রমিক পাঠাতে ১৪৮ কোটি ৬২ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে শওকত হোসেন শিকদারকে আসামি করা হচ্ছে।
হায়দরী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৩৬৪০ শ্রমিক পাঠাতে ৬০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে বলে দুদকের অভিযোগ। এ এজেন্সির সৈয়দ গোলাম সরোয়ার ও ফাতিমা ফারহীন নিশা চৌধুরীকে আসামি করে মামলা হচ্ছে।
আমিয়াল ইন্টারন্যাশনাল ৭৮২১ শ্রমিক পাঠাতে ১৩১ কোটি ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে অভিযোগ এনে শাহ জামাল মোস্তফা বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক।
ইস্ট ওয়েস্ট প্যারাডাইসের বিরুদ্ধে ৩৬৪৪ জন শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৬১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করার অভিযোগ এনে ইউসুফ নবীর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থা।
দুদক বলেছে, বেসিক পাওয়ার অ্যান্ড কেয়ার ওভারসিজ ৪০২৯ শ্রমিক পাঠাতে ৬৭ কোটি ৪৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে। যে কারণে মোহাম্মদ শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
দুদকের অভিযোগ, বিডি গ্লোবাল বিজনেস ৪১৮৮ শ্রমিক পাঠাতে ৭০ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার ০০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে, মামলা হবে মোঃ সুলাইমানের বিরুদ্ধে।
মেসার্স ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল ৪২৭৩ শ্রমিক পাঠাতে ৭১ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেছে, এই তথ্য দিয়ে মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করবে বলেছে দুদক।
আহাদ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩৩৬১ শ্রমিক পাঠাতে ৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৬৭ হাাজর ৫০০ টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে যে মামলাটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক, তাতে জসীম উদ্দিন আহমেদ ও বিলকিস আহমেদকে আসামি করা হচ্ছে।
আগা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ৩০৬ শ্রমিক পাঠাতে ৫১ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি করা হবে সায়েম মোহাম্মদ হাসানকে।
এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ২৭৮১ শ্রমিক পাঠাতে ৪৬ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাাজর ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে পারভীন রহমান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও তানজিলা উচ্ছাসকে আসামি করা হচ্ছে।
আলহেরা ওভারসিজ ৩৮৯৩ শ্রমিক পাঠাতে ৬৫ কোটি ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে তুলে ধরে দুদক বলছে, রাশেদ খান, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ ইউছুফ খানকে আসামি করে মামলা হবে।
দুদক বলছে, এএনজেড মাল্টি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৩৩৮১ শ্রমিক পাঠাতে ৫৬ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা বেশি নিয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর কবীর ও ফেরদৌসি কবীরকে আসামি করা হবে।
সংস্থার অভিযোগ, মদিনা ওভারসিজ প্রাইভেট লিমিটেড ৪১৭২ শ্রমিক পাঠাতে ৬৯ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ মামলায় নাসির উদ্দিন মজুমদার (সিরাজ), রওশন আরা বেগম ও জোবাইর হাইদার মজুমদারকে আসামি করা হবে।
নেক্সট ওভারসিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৪২৩০ শ্রমিক পাঠাতে ৭০ কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় মোঃ তরিকুল ইসলাম ও ইমাম হোসাইনকে আসামি করা হবে।
ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেডের পাঠানো শ্রমিকের সংখ্যা জানা না গেলেও তাদের বিরুদ্ধে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোহা: বাবুল শেখ, এস এম রফিক, এম এ রশিদ শাহ, মোঃ আব্দুল জব্বার মীর ও মোঃ আব্দুল মান্নান গাজীকে আসামি করা হচ্ছে।
গ্যালাক্সি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ৪০৯৫ শ্রমিক পাঠাতে ৬৮ কোটি ৫৯ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাতের’ মামলায় আসামি করা হচ্ছে শেখ আজগর নস্কর ও মোঃ আক্কাছ আলী।
ম্যানেইজ পাওয়ার কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ৩১১৯ শ্রমিক পাঠাতে ৫২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করার অভিযোগ আনছে দুদক। এ মামলায় মোহাম্মদ মাহবুব আলম ও শাহীন সুলতানাকে আসামি করা হচ্ছে।
এশা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৩৯১৫ শ্রমিক পাঠাতে ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে দুদকের অভিযোগ। তাছলিমা আক্তারকে আসামি করে মামলা করবে তারা।
মুবিন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ৪৫৯৫ শ্রমিক পাঠাতে ৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি করা হবে মোঃ রাকিবুল ইসলাম শাহিন, মোঃ এলিম মাদবর, মোঃ কাওছার মিয়া ও মোঃ জাবেদ মিয়াকে।
জে জি আল ফালাহ ম্যানেজমেন্ট ৫০১২ শ্রমিক পাঠাতে ৮৩ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে, মামলায় মোহাম্মদ সোহেল রানাকে আসামি করা হবে বলে দুদক বলেছে।
নিউ হেভেন ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ২৮৪৬ শ্রমিক পাঠাতে ৪৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলা সংস্থার আসামির তালিকায় আছেন উবায়েদুল হক শরীফ ও মোঃ শাহাব উদ্দিন (শিহাব)।
মনছুর আলী ওভারসিজ অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে ৩১১৯ শ্রমিক পাঠাতে ৫২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি করা হচ্ছে শাহ ইমরান ভূইয়াকে।
ম্যাচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ৪৮৫ শ্রমিক পাঠাতে ৮১ কোটি ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি আদায়ের মামলায় দুদক আসামি করবে মোঃ আমিনুর রহমান (হারুন) ও শিরিন রহমানকে।
নাতাশা ওভারসিজ ৩৬৮৯ শ্রমিক পাঠাতে ৬১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি করা হচ্ছে মোঃ নাজিবুর রহমানকে।
শান ওভারসিজের বিরুদ্ধে ২০৭৯ শ্রমিক পাঠাতে ৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে মামলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দুদক বলছে, এবিএম শামসুল আলম কাজলকে আসামি করা হবে।
অপরাজিতা ওভারসিজের বিরুদ্ধে ৩৫৭৬ শ্রমিক পাঠাতে ৫৯ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি করা হবে আরিফুর রহমানকে।
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান অ্যান্ড সন্স লিমিটেড ৪০২৭ শ্রমিক পাঠাতে ৬৭ কোটি ৪৫ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে, এই অভিযোগে কাজী মোহাম্মদ ফুহাদুর রহমান, কাজী মোহাম্মদ ফুরহাদুর রহমান ও আঞ্জুম আরা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।
ত্রিবেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৩২৪৬ শ্রমিক পাঠাতে ৫৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে, এই অভিযোগে দুদক সেলিনা আলী, মোঃ নাহিদ উল ইসলাম, নাবিলা আলী ও সাইফুল নূরের বিরুদ্ধে মামলা করবে।

আক্তার রিক্রুটিং এজেন্সি ৩৭৮৩ শ্রমিক পাঠাতে ৬৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে অভিযোগ এনে আক্তার হোসেন ও নাজমা আক্তার মলিকে আসামি করতে যাচ্ছে দুদক।
মৃধা ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ৪২২১ শ্রমিক পাঠাতে ৭১ কোটি ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে অভিযোগ এনে দুদকের মামলায় আসামি করা হচ্ছে কাউসার মৃধাকে।
ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ৩৫৭১ শ্রমিক পাঠাতে ৫৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগ এনে দুদক যে মামলাটি করতে যাচ্ছে তাতে আসামি করা হবে শাহাদাত হোসেন ও খালেদা হোসেনকে।
সুলতান ওভারসিজ লিমিটেড ৪৫৪২ শ্রমিক পাঠাতে ৭৬ কোটি ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে, এই অভিযোগে দুদক আলতাফ হোসাইন, হুমায়ুন কবির ও শাহিদা আক্তারকে আসামি করে মামলা করবে।
রানওয়ে ইন্টারন্যাশনাল ৪৯৯৮ শ্রমিক পাঠাতে ৮৩ কোটি ৭১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে তুলে ধরে দুদক বলছে, এ মামলায় মোঃ সামিউর রহমানকে আসামি করা হবে।
সংস্থার তথ্য বলছে, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ২৩৮৪ শ্রমিক পাঠাতে ৩৯ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মোঃ আশরাফউদ্দিকে আসামি করে মামলা হচ্ছে।
জনতা ট্রাভেলস ৩৩৫২ শ্রমিক পাঠাতে ৫৬ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে, এমন অভিযোগে মাজেদা বেগম, মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, নাসের মুনিম হোসেন ও তৌহিদা জাবিনের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।
উইন ইন্টারন্যাশনাল ৩২৯৮ শ্রমিক পাঠাতে ৫৫ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেশি নিয়েছে বলে অভিযোগ দুদকের। মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার উইনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলেছে সংস্থাটি।
কমফোর্ট ওভারসিজ কনসালট্যান্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ২৯৭৮ শ্রমিক পাঠাতে ৪৯ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত বেশি নিয়েছে। কোম্পানির মেহেদি হাসান ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করে মামলা করবে দুদক।
কিসওয়া এন্টারপ্রাইজ ৩২৯৪ শ্রমিক পাঠাতে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ দুদকের। কোম্পানির রাজিব আহমেদ, তালহা আরিফ ও আব্দুল মজিদকে আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে।
আমান এন্টারপ্রাইজ ৩১৪৯ শ্রমিক পাঠাতে ৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা বেশি নিয়েছে বলে দুদকের অভিযোগ। সংস্থা মোঃ রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারীকে আসামি করে মামলা করবে।
রমনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ২৫৩২ শ্রমিক পাঠাতে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছে বলে দুদক বলেছে। এজেন্সির শহীদুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি।
আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড কনসালট্যান্সি ৩৫৪৮ শ্রমিক পাঠাতে ৫৯ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ‘অতিরিক্ত আদায়’ করেছে অভিযোগে দুদক জাকির আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে।
প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড টু্রিজম লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩৩১৪ শ্রমিক পাঠাতে ৫৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি করা হচ্ছে গোলাম মোস্তফা, কায়সার সুলতানা ও রাকিব বিন মোস্তফাকে।
কাশীপুর ওভারসিজ ৪২১৫ শ্রমিক পাঠাতে ৭০ কোটি ৬০ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগে এজেন্সির মো. রফিকুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।
গেল ১১ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ৩১০ কোটি টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে পাঁচজনের নামে মামলা করে দুদক।
এর আগে ৬ নভেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে ৫২৫ কোটি টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে।
তারও আগে, ১১ মার্চ একই ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ করে ১১২৮ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামালের প্রতিষ্ঠানসহ ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।
এছাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর একইভাবে ১১৫৯ কোটি টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে ১৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে।