Published : 07 Feb 2026, 07:40 PM
মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের যে ভূমিকা, তাতে মার্ক টালির নাম সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে বলে মনে করেন গবেষক মফিদুল হক।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের এ ট্রাস্টি বলেন, "একাত্তরে বাংলাদেশে একটি জায়গার নামই হয়ে গিয়েছিল 'বিবিসি বাজার'। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন মানুষ বিবিসির খবর শোনাতেন। সবাই মার্ক টালির খবর শুনতে অপেক্ষায় থাকতেন।"
শনিবার বিকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে 'একাত্তরে বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি স্মরণ' শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
শুরুতেই মার্ক টালিকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব।
মফিদুল হক বলেন, "মার্ক টালি সংবাদ করেছেন, আবার সংবাদ বিশ্লেষণও করেছেন। এখন চর্চাটি এখন খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আগামী দিনের সাংবাদিকতায়ও এই চর্চা প্রাসঙ্গিক হবে বলে মনে হয়।"
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আরেক ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, "মুক্তিযুদ্ধে একটি অসম যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিল বাংলার মানুষ। আর তা সম্ভব হয়েছিল কারণ মার্ক টালির মতো সাংবাদিকেরা সত্য তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন।
“তখন বিশ্ববাসীর জনমত বা সমর্থন পাওয়ার জন্য এটি ভীষণ জরুর ছিল। মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার নৃসংসতা, ভয়াবহতার কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন মার্ক টালি।"
"মার্ক টালিকে সম্মান জানানো মানে সেই সব সাংবাদিককে সম্মান জানানো, যারা মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন। আমরা মার্ক টালিকে এজন্য স্মরণ করি, তিনি সাংবাদিকতাকে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় অনন্য করে তুলেছেন।"

সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব বলেন, "যুদ্ধের সময় আমরা ক্যাম্পে থাকতাম, রেডিও শুনতাম। তখন আকাশবাণীসহ কয়েকটি রেডিওতে আমরা খবর শুনতাম। বিবিসির বাংলা সার্ভিস ছিল আমাদের বিশেষ আগ্রহের জায়গা। বিবিসি বাংলা সার্ভিস সত্যকে তুলে ধরেছে। মুক্তিযুদ্ধে জনমত গড়তে সহায়তা করেছে। যখন কিছুই জানা যাচ্ছিল না, তখন বিবিসি এবং মার্ক টালি ছিলেন খবর জানার জন্য আমাদের ভরসার জায়গা।
"আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মার্ক টালির পরিচয় হয় মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে। আমরা এমন সময় মার্ক টালিকে স্মরণ করছি, যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একটা বিপন্ন সময় পার করছে।"
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, "মার্ক টালির কথা আমি প্রথম শুনি আমার বাবার মুখে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ছিল। আমার বাবা বলেছিলেন, 'একটা লোকই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সত্য কথা বলে- তিনি হলেন মার্ক টালি'।
"পরে আমার যখন মার্ক টালির সঙ্গে দেখা হয়, তখন তাকে বাবার কথাটা বলেছিলাম। তখন মার্ক টালি আমাকে বলেছিলেন, 'আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিক ছিলাম না, আমি ছিলাম সত্যের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সত্যটা বলার চেষ্টা করেছি। তোমরা ন্যায়ের পক্ষে ছিলে বলে আমিও তোমাদের পক্ষে ছিলাম'।"
বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা বলেন, "আমি বিবিসিতে যোগ দিই ১৯৯৯ সালে, তার বছর পাঁচেক আগেই বিবিসি ছেড়ে দেন মার্ক টালি। তার সঙ্গে আমার কাজ করা হয়নি। মার্ক টালির সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ১৯৯২ সালে।
"মার্ক টালি হতে চেয়েছিলেন ধর্মযাজক। কিন্তু তিনি পরে সাংবাদিকতায় জড়িয়ে যান। ১৯৬৫ সালে তিনি দিল্লিতে বিবিসিতে কাজ শুরু করেন। তার নব্বই বছরের ৭০ বছরই কাটিয়েছেন ভারতে।"
একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ শারমীন বলেন, "মার্ক টালির কথা যখন স্মরণ করি, তখন চোখে ভেসে ওঠে মুক্তিযুদ্ধ। তিনি ছিলেন মাঠের সাংবাদিক।
“তিনি যে সময় সাংবাদিকতা করেছেন, তখন প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। তিনি শরণার্থীদের কথা তুলে ধরেছেন, নারীদের কথা তুলে ধরেছেন।”
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ব্যবস্থাপক (কর্মসূচি) রফিকুল ইসলাম।
পুরনো খবর