০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ মাধ্যমে বিচার করে ফেলছে দুদক: আদালতকে ইনু

অনেক সংস্থার অনেক বড়বড় ভবন হয়েছে, কিন্তু বিচার বিভাগের কোনো উন্নতি হয়নি, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিচারক।

‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ মাধ্যমে বিচার করে ফেলছে দুদক: আদালতকে ইনু
আদালতে সাবেক তথমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2025, 03:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:27 PM

‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন শুনানির সময় ইনু আদালতকে বলেন, বিচারের আগেই ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ মাধ্যমে  বিচার করে ফেলেছে  দুদক।

গত বছরের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনুকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

দুদক ১৬ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জন ও ‘সন্দেহজনক লেনদেনের’ অভিযোগ মামলা করে।  

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করার পর আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য রোববার (২৭ জুলাই) দিন ধার্য করে। 

এদিন শুনানিকালে সাবেক এই মন্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়।

সকাল ৯টার দিকে তাকে আদালতে আনার পর মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাড়ে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।

দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন। আর ইনুর পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম।

সেলিম শুনানিতে বলেন, আদালতের হাজতখানায় নিরাপত্তাহীনতায় বোধ করেন ইনু। এদিন তাকে সকাল ৯টায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখানে তাকে রাখা হয় অন্য প্রায় ৫০ আসামির সঙ্গে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব আসামিদের মধ্যে তাকে রাখায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের কাছে সকল গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের জন্য আলাদা হাজতখানা করার দাবি জানান এই আইনজীবী।

এরপর বিচারক বলেন, “আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশের। আমরাও চাই না এই সমস্ত আসামিদের আদালতে নিয়ে আসা হোক। 

“কিন্তু আমাদের কিছু করার নাই। কেননা বিচার ব্যবস্থা এখনও ডিজিটালাইজড করা হয়নি। আমরা পুরাতন ব্যবস্থার মধ্যেই রয়ে গিয়েছি। এ কারণে তাদের প্রায়ই আদালতে নিয়ে আসা হয়।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক বলেন, অনেক সংস্থার অনেক বড়বড় ভবন হয়েছে, কিন্তু বিচার বিভাগের কোনো উন্নতি হয়নি। মহানগর দায়রা জজ আদালতের এই ভবনও নিজের না, এটি জেলা জজ আদালতের ভবন। 

তিনি বলেন, “এখানে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য টয়লেটেরই ব্যবস্থা নাই, বসাতো দূরের কথা। এজলাসের মধ্যে আইনজীবীদেরই বসার জায়গা থাকে না, বিচারপ্রার্থী তো দূরের কথা।”

আওয়ামী সরকারের আমলে অনেক বড় বড় মন্ত্রী এমপিরা আইনজীবী ছিলেন তুলে ধরে বিচারক বলেন, “আইনমন্ত্রী নিজেও এই আদালতে প্র্যাকটিস করতেন। কিন্তু আইনব্যবস্থার কোনো উন্নতি করেননি।” 

তিনি বলেন, “সেদিন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এসেছিলেন, আমি তাকেও বলেছি, আপনারা যদি বিচারব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশন করতেন তাহলে আজকে তার সুফল ভোগ করতে পারতেন। কারাগার থেকে আর আদালতে আসা লাগতো না, করাগারে বসেই মামলার কার্যক্রম করতে পারতেন। আমাদেরও এতো ভোগান্তি হত না। ভিডিও কলের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে শুনানি করতে পারতাম।” 

এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ইনু আদালতকে বলেন, “আদালতের মাধ্যমে জেল, ফাঁস যা দেন, তাতে সমস্যা নেই। আমার মামলার বিষয়বস্তু পত্র-পত্রিকায় আগেই দেখেছি। বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়েলের মাধ্যমে বিচার করে ফেলছে দুদক।”

তখন বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আজ শুধু গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি।” 

এরপর বিচারক তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। 

এজলাস থেকে নামার সময় ইনু বিচারককে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, “আপনি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এজলাসের ব্যবস্থা করায় আপনাকে ধন্যবাদ।”

দুদকের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার চারটি ব্যাংক হিসাবে ১১ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ১৯ টাকার ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ হয়েছে। 

আরেক মামলায় হাসানুল হক ইনুর স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইনুর উপার্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রী সম্পদশালী হয়েছেন বলেও মামলায় বলা হয়েছে।

পুরনো খবর:

এবার জাসদ সভাপতি ইনু গ্রেপ্তার

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরেক অভিযোগ, সঙ্গে ইনু মেনন মঞ্জু