ভোটের মাঠে ২৯ ডিসেম্বর থেকে সেনা মোতায়েনে ইসির চিঠি
প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার ‘নোডাল পয়েন্ট’ ও সুবিধাজনক স্থানে তারা নিয়োজিত থাকবে।
আগামী ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে মিলিয়ে ১৩ দিন সেনা মোতায়েনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন; ভোটের মাঠে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি সেনা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার ইসির উপসচিব আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এ চিঠি সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে সেনা মোতায়েনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এবার সেনা সদস্য ছাড়াও আইনশৃখ্লা বাহিনীর প্রায় সাড়ে সাত লাখ সদস্য নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
আগের বারের মতো এবারও বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় সেনা সদস্যদের কাজ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
এরপর রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোটের মাঠে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে অনুরোধ জানান।
বৈঠক শেষে ইসি সচিব জাহাংগীর আলম জানিয়েছিলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। এখন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সম্মতি দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। এরপর পরিপত্র জারি করে কর্মপরিধি নির্ধারণ এবং কবে কখন মোতায়েন হবে, তা জানানো হবে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পরদিনই ইসি এ চিঠি পাঠাল। এতে বলা হয়, “ভোটগ্রহণের পূর্বে, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরে শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার নিমিত্ত ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমগ্র বাংলাদেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত (যাতায়াত সময়সহ) সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।”
নির্বাচনি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামো এবং নির্বাচনি পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর ‘প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ’ করার জন্য প্রতি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর ছোট আকারের একটি করে অগ্রবর্তী টিম পাঠানো যেতে পারে বলেও মতামত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
চিঠিতে বলা হয়, মোতায়েন করা সেনা সদস্যরা নির্বাচনি কাজে নির্বাহী হাকিমের পরামর্শে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার ‘নোডাল পয়েন্ট’ এবং সুবিধাজনক স্থানে নিয়োজিত থাকবে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা-থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
সবশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনের আগে-পরে মিলিয়ে ১০ দিন বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নির্বাচনি এলাকাগুলোতে ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়।
ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর টিমের সাথে নির্বাহী হাকিম নিয়োজিত করা হবে এবং ‘আইন, বিধি ও পদ্ধতিগতভাবে’ কার্যক্রম গৃহীত হবে।
“বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধক্রমে চাহিদামত আইনানুগ অন্যান্য কার্যক্রমে সহায়তা করতে হবে।”
এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে বলে চিঠি উল্লেখ করেছে ইসি। সেনা মোতায়েনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে পত্রে।
এবারের ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইসি। এরইমধ্যে আনসার সদস্য ৫ লাখ ১৬ হাজার জন, পুলিশ ও র্যাব এক লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন, কোস্টগার্ড দুই হাজার ৩৫০ জন, বিজিবি ৪৬ হাজার ৮৭৬ জন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
