Published : 10 May 2026, 03:34 PM
ঢাকার বনানী থানার অস্ত্র আইনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।
আগামী ২১ জুন শুনানির দিন রেখেছে আদালত।
রোববার আনিসুল হকের আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করার প্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করে আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী এ তথ্য দিয়েছেন।
এদিন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির ধার্য তারিখ থাকায় আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। তবে তার পক্ষে ব্যারিস্টার সুমন হোসেন সময় চেয়ে আবেদন করেন।
আইনজীবী বলেন, “আওয়ামী সরকারের পতনের পর তার বাড়ি লুট হয়। তার বৈধ অস্ত্র ছিল। সেটিও লুট হয়। তার পক্ষ থেকে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। অস্ত্রের বিষয়ে ‘ডকুমেন্ট কালেক্ট’ করতে পারিনি। এজন্য সময় প্রয়োজন।”
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম সময়ের আবেদনের বিরোধিতা করেন।
শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে আদালত শুনানির পরবর্তী দিন রাখে।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আটদিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন হত্যা, হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গেল বছর ২৪ মে বনানী থানায় অস্ত্র মামলাটি দায়ের করেন ওই থানার এসআই মো. জানে আলম দুলাল।
সম্প্রতি তদন্ত শেষে আনিসুল হককে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে বনানী থানা পুলিশ।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, আনিসুল হক বনানী থানার অধীনে নিজের নামে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি পিস্তলের মালিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
কিন্তু আনিসুল হক ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি থানায় জমা দেননি বা থানাকে অবহিতও করেননি। তার ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং অস্ত্র জমা সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। তিনি গুলি কিনেছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ফলে তিনি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(১) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।