Published : 11 Feb 2026, 10:49 PM
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’।
মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয় বলে সরকারপ্রধানের দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতাসমূহের আইনি এবং কারিগরি দিকসমূহের পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের পাশাপাশি নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, “৮টি মানদণ্ডে আটটি সুপারিশ করা হয়।”
প্রতিবেদন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট হিসেবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত ঘটনা এবং একই সঙ্গে নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করাই ছিল কমিটির মূল লক্ষ্য।
কমিটি তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বর্তমানে প্রচলিত অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক এবং অডিট-ড্রাইভেন “দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা” কাঠামো সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এটি “একটি বৈশ্বিক মান সম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে” বলেও তুলে ধরা হয়।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) দিকনির্দেশনা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, মানবাধিকার মানদণ্ড এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রশাসনিক সক্ষমতার আলোকে একটি বাস্তবসম্মত সংস্কারপথ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কমিটির প্রস্তাবের মধ্যে এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ৯৭, ৯৭ (ক), ৯৭(খ), ৯৭(গ) ধারার সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত সংস্করণ গেজেটভুক্ত করেছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া কমিটি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রস্তাবও করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই প্রতিবেদন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে “পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পরসম্পূরক” হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।