১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সামিটের আজিজ খান পরিবারের রিট নাকচ, ১৯১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ বহাল

রোববার বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

সামিটের আজিজ খান পরিবারের রিট নাকচ, ১৯১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ বহাল
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2025, 03:49 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, তার পরিবার এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৯১ হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।

রোববার বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রিট আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেয়।

দুদকের আবেদন মতে, এ হিসাবগুলোতে আজিজ খান পরিবারের ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকা রয়েছে।

দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহমুদুল আরেফিন স্বপন। 

দুদকের এই আইনজীবী বলেন, আজিজ খানদের পক্ষে এ রিট আবেদন করেছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। 

“সেখানে তিন দিন শুনানি হয়। তাদের গ্রাউন্ড ছিল যে তাদের অল্টারনেটিভ এফিকেশাস রেমিডি নাই। আর এসিসির পক্ষে আমার আবেদন ছিল, এটার এফিকেশাস রেমিডি আছে। কোনো আদেশের বিরুদ্ধে যদি মহামান্য হাই কোর্টে কোনো আদেশ বা রায় চ্যালেঞ্জ করা হয়, তাহলে আপিলে আসতে হবে ৩০ দিনে। ৩০ দিন যদি অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে ক্রিমিনাল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৮ সেকশন ১০(১) তে বলা হয়েছে যে রিভিশনে আসতে পারবে। এই গ্রাউন্ডের বিবেচনায় হাই কোর্টে তাদের আবেদন নাকচ হয়ে যায়।”

অর্থাৎ এর ফলে নিম্ন আদালত সামিট গ্রুপের যে ১৯১টি অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করেছিল তা বহাল থাকবে, যোগ করেন তিনি। 

তবে রিট আবেদনকারী আইনজীবী কারিশমা জাহানের বরাতে সামিট গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগ বলছে, রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী শুনানির সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এতে আদালত রিটটি ‘রিজেক্টেড ফর ডিফল্ট’ করেছেন। রিটটি পুনরুজ্জীবিত করতে হাই কোর্টে আবেদন করা হবে।

গত ৯ মার্চ গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি ফারুক খানের ভাই সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, পরিবার এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৯১ হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব।

দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন আদালতে এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধে চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

আবেদনে বলা হয়, সামিট গ্রুপ এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের’ অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, তাদের নামে সঞ্চয়ী, এফডিআর ও অন্যান্য হিসাবগুলোর তথ্য পাওয়া যায়। এসব হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে, যা ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’। যেকোনো সময় এ অর্থ উত্তোলন করে বিদেশে পাচার বা গোপন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ১৯১টি ব্যাংক হিসাবে জমা ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে দুদক মনে করে।

পুরনো খবর:

সামিটের আজিজ খানের পরিবারের ৫৪ কাঠা জমি জব্দের আদেশ

সামিটের আজিজ খানসহ পরিবারের ১১ সদস্যের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

লুক্সেমবুর্গে আজিজ খানের শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ ঢাকার আদালতের

আগের সুবিধা বাতিল, সামিটের উৎসে কর 'ফাঁকি' ১,১১২ কোটি টাকা