Published : 03 Aug 2025, 11:48 PM
রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে গঠিত পাঁচটি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সে কমিশনগুলোর প্রধানরা।
তাদের সুপারিশের আলোকে ‘প্রয়োজনীয়’ সংস্কারসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন পাঁচ কমিশনের প্রধানরা।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়ে তারা আশা প্রকাশ করেন যে প্রধান উপদেষ্টা এ জন্য ‘যথাযথ’ ও ‘সময়োচিত’ ব্যবস্থা নেবেন।
এদিন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়।
গত বছর ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
অক্টোবরে প্রথম ধাপে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন ও দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের মধ্যে পুলিশ বাদে বাকি পাঁচটির ১৬৬টি সুপারিশের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস আলোচনা করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
দুই পর্যায়ে ঐকমত্য কশিনের সংলাপে মতৈক্য হওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে জুলাই সনদ বা জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
গত নভেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে গঠিত শ্রম, গণমাধ্যম, স্থানীয় সরকার, নারী ও স্বাস্থ্য খাত সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে আলোচনা হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে গঠিত ছয়টি বিষয়ভিত্তিক কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ চালিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োচিত ও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত কমিশনসমূহের সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রমও সমানভাবে জরুরি।
সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অত্যাবশ্যক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে তাদের পরামর্শ হল-অন্তর্বর্তী সরকার অন্তত: দুটি কার্যকর পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করতে পারে। প্রথমত, এখনই যেসব সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো বাছাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা; দ্বিতীয়ত, এসব সংস্কার নির্বাচিত সরকার অব্যাহত রাখবে—এই মর্মে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যে বিষয়গুলো জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করা।
কমিশন প্রধানেরা বলেছেন, জাতীয় সনদে গণমাধ্যম, নারী, শ্রম, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক সংস্কারসমূহ অন্তর্ভুক্ত না হলে রাজনৈতিক দলগুলো ভবিষ্যতে তা ‘বাতিল বা উপেক্ষা’ করার সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে, জনমানসে এর ‘নেতিবাচক’ প্রভাব পড়বে।
গণঅভ্যুত্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক, নারী ও সাংবাদিক প্রাণ দেওয়ার কথা তুলে ধরে পাঁচ কমিশনের প্রধানরা বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ থেকে যে আশা ও স্বপ্ন জন্ম নিয়েছে, তা উপেক্ষিত হলে তা ব্যাপক ‘হতাশা ও ক্ষোভের’ জন্ম দিতে পারে।
তারা একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পণের জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন শ্রম সংস্কার কমিশন প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রধান শিরীন পারভিন হক, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন প্রধান তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন প্রধান জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ।