Published : 28 Oct 2024, 01:45 PM
দুই দিন আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনিভা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ কিশোর রহমত সার্জ্জন মারা গেছে।
ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়।
সেখানকার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।
নিহত কিশোর সেলুন কর্মচারী শমসের আলীর ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সার্জ্জনই ছিল সবার ছোট।
গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেনিভা ক্যাম্পে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয় সার্জ্জন; আহত হয় আরো তিনজন।
ওইদিন তার বড় ভাই মোহাম্মদ মুরাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “সাড়ে ৫টার দিকে বাসা থেকে পানি আনতে বাইরে বের হয়েছিল সার্জ্জন। আচমকাই ক্যাম্পের ভেতরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মধ্যে সে ডান হাতে ও পেটের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়।"
ঘটনার পর আহতদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সার্জ্জনকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
জেনিভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসার দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব বহুদিনের। তবে দেশের অস্থিরতার মধ্যে গত জুলাই থেকে প্রাণক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াচ্ছে সেখানকার দুটি পক্ষ।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের সংঘাতে যুক্ত হয় থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র। গত দুই মাসে সেখানকার সংঘাতে সার্জ্জনসহ অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছে।
জেনিভা ক্যাম্পের একেকটা ঘরের আয়তন সব মিলিয়ে ১০০ থেকে ১২০ বর্গফুটের মত বা তার চেয়ে একটু বেশিও আছে কোনোটা। কোনো কোনো ঘরে তিন প্রজন্মের সবাই একসঙ্গে থাকেন।
ঘরের খাটে একদল আর খাটের নিচে আরেকদল ঘুমায়। ঘিঞ্জি পরিবেশ, সুপেয় পানি আর শৌচাগারের সংকটও আছে। এর মধ্যেই মাদক কারবারিদের সংঘাত তাদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে।
আরও পড়ুন
জেনিভা ক্যাম্পে ফের গুলি, আহত ৪
জেনিভা ক্যাম্পে ফের গুলি, নিহত ১
জেনিভা ক্যাম্প: শতকোটির মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে প্রাণক্ষয়ী সংঘাত