Published : 04 May 2026, 08:25 PM
প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু, বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মী ও প্রবাস থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য ঋণের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
সোমবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা শেষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এই পরিকল্পনার কথা বলেছেন।
মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের ‘রোডম্যাপের’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সহজ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং প্রবাসীদের ‘ওয়ান স্টপ সলিউশন’ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
এবার চার দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হয়েছে রোববার। ডিসি সম্মেলনে সারা দেশ থেকে ডিসিরা অংশ নেন। মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম এই ডিসি সম্মেলন।
সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান জেলা প্রশাসকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনায় প্রবাসীদের জন্য যেসব সেবা রয়েছে সেগুলো এক ছাতার নিচে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পাসপোর্ট নিয়ে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও হয়রানি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এখন থেকে জেলা জনশক্তি অফিস থেকে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পাসপোর্ট অফিসে প্রবাসীদের জন্য একটি ‘বিশেষ ডেস্ক’ থাকবে, যাতে তারা দ্রুত সেবা পেতে পারেন।”
ঋণের সীমা বৃদ্ধি ও শিক্ষাঋণ
বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার আলোচনা চলছে।
“এছাড়া জাপান, কোরিয়া ও চীনে ভাষা শিক্ষা কোর্সে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রাথমিক ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে।”
অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা ও দালাল চক্র
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নুর বলেন, “দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। জনশক্তি রপ্তানিতে স্বচ্ছতা আনতে অভিবাসন আইন ২০১৩ সংশোধন করে ২০২৫ সালে পাসের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে শাস্তির পরিমাণ আরও কঠোর করা হচ্ছে।
“শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে ইতালি সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।”
প্রবাসীদের সচেতন করতে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়তে বর্তমানে দেশে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) সচল রয়েছে এবং আরও ৯০টি কেন্দ্র স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, বলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় গৃহীত এসব পদক্ষেপের দৃশ্যমান ফলাফল আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।