Published : 21 Nov 2025, 02:35 PM
ঢাকার পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় আটক মোক্তার হোসেন গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে।
শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে িচকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পল্লবীর পুরনো থানার কাছে সি ব্লকে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে মুখোশ ও হেলমেট পরা তিন ব্যক্তি ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে খুব কাছ থেকে গুলি করে চলে যান।
রাত ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনা।
ডিএমপি বলছে, ওই মামলায় বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে নজরুল, মাসুম ও জামান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি মোক্তার হোসেনের (৪০) হেফাজতে আছে বলে জানায়।
সেই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর পল্লবী এলাকায় একটি গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি দল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোক্তার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কৌশলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে কিল-ঘুষি মারে। এরপর মোক্তারের দেখানো তথ্য অনুযায়ী একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির ভাষ্য, এরপর মোক্তার হোসেনকে (৪০) ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে তিনি অসুস্থবোধ করলে তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছাড়পত্র দিলে মোক্তারকে ফের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোক্তার হোসেনকে খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করা হলে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। তখন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মোক্তারের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনা তদন্তে ডিএমপির তরফে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।