Published : 23 Jan 2026, 10:21 AM
ঢাকার পল্টনে একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা শিক্ষক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ভোরে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার পবিত্র মামলার প্রধান আসামি, অপর আসামি তার স্ত্রী শারমিন জামান এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
‘শারমিন একাডেমি’ নামে ওই স্কুলটিতে ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় শিক্ষকের হাতে ৪ বছর বয়সি এক শিশু নির্যাতনের শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বৃহস্পতিবার শিশুটির মা পল্টন থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় স্কুলের ব্যবস্থাপক ও শিক্ষক পবিত্র বড়ুয়া এবং তার স্ত্রী শারমিন জামানকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে স্কুল বন্ধ করে আসামিরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান শুক্রবার সকালে বলেন, “ঘটনার পর মিরপুরে এক স্বজনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন পবিত্র কুমার বড়ুয়া। তবে শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি, তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
বুধবার থেকে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢুকার মূহুর্তে শিশুটিকে চড়-থাপ্পর দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছে বলে মনে হচ্ছে।

সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি স্ট্যাপলার হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে স্ট্যাপল করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বার বার থামতে বলছিলেন।
একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১ টার দিকের। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন।
স্কুলে শিশু নির্যাতনে মামলা: আসামি ২ শিক্ষক পলাতক, স্কুল বন্ধ