Published : 22 Jan 2026, 10:10 PM
ঢাকার পল্টনে একটি স্কুলে দুই শিক্ষকের হাতে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ছড়িয়ে পড়ার পর মামলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে স্কুল বন্ধ করে আসামিরা পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
‘শারমিন একাডেমি’ নামে ওই স্কুলটিতে ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় শিক্ষকদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয় চার বছর বয়সী শিশুটি।
পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান বলেছেন, “ভুক্তভোগী ওই শিশুটির মা বৃহস্পতিবার শিশু অধিকার আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় স্কুলের শিক্ষক পবিত্র বড়ুয়া ও তার স্ত্রী শারমিন জামানকে আসামি করা হয়েছে।”
ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, “স্কুলটিও বন্ধ রয়েছে, আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।”
বুধবার থেকে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছেন বলে মনে হচ্ছে।

সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি স্ট্যাপলার হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখ স্ট্যাপল করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বার বার থামতে বলছিলেন।
এক পর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকের। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন।
সাজিদা ইসলাম পারুল নামে একজন লেখেন, “ভিডিওটি দেখে সত্যিই কলিজা কেঁপে উঠেছে। চার মিনিট ধরে একটানা একটি শিশুকে নির্যাতন—এ কেমন মানুষ, কেমন বর্বর শিক্ষক এরা!
“এটাই নাকি রাজধানীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শারমিন একাডেমি’-তে শিশু শাসনের নমুনা চিত্র। ভাবতেই গা শিউরে ওঠে, যেখানে শিশুদের নিরাপদ থাকার কথা, সেখানে তারা ভয় আর আঘাতের শিকার হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আমরা অভিভাবকরা কি আদৌ যথেষ্ট সচেতন? শুধু নামী স্কুল বা চকচকে ভবন দেখেই কি সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছি? ভর্তি করানোর আগে স্কুলের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা আর তথাকথিত ‘শিক্ষক’দের মানসিকতা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া কতটা জরুরি—এই ভিডিও যেন সেটাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
“শিশুরা শিখতে যায়, ভয় পেতে নয়। তাদের মানুষ করতে হয় ভালোবাসা দিয়ে।”