Published : 23 Jul 2026, 08:20 PM
ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন দমনে মুম্বাইয়ের এক পুলিশ কর্মী আন্দোলনকারীদের মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মুম্বাই পুলিশ প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ওই পুলিশ গাড়িচালককে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সম্প্রতি মুম্বাই কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
এতে দেখা যায়, পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীকে হুমকি দিচ্ছেন সামনে চালকের আসনে বসে থাকা ইউনিফর্ম পরা এক পুলিশ সদস্য। তিনি তাদেরকে বাড়ি ফিরে যেতে বলছেন এবং তারা যাতে ফের আন্দোলনে অংশ না নেয় সেজন্য শাসাচ্ছেন।
ভিডিওটিতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা গেছে, “তোমাদের যদি এখানে আবার দেখা যায়, আমি তোমাদের জীবন বরবাদ করে দেব। তোমাদের ব্যাগে ৫০ গ্রাম করে মাদক পাউডার ঢুকিয়ে দেব। এতে তোমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি পোস্ট করে মুম্বাই কংগ্রেস এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
কংগ্রেস বলেছে, “যদি এই ঘটনা সত্য হয়, তবে এটি শুধু ছাত্রদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ। নিজের মত প্রকাশ করা অপরাধ নয়। ছাত্রদের প্রশ্নের জবাব হুমকি দিয়ে নয়, জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় মুম্বাই পুলিশ। ঘটনার সত্যতা ও অভ্যন্তরীন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়।
তদন্তের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মীকে (চালক) তার বর্তমান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) আহ্বানে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক বিক্ষোভ করে আসছে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে মুম্বাই পুলিশের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভকারীদের ডিজিটাল নজরদারি এবং তাদের বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বইয়ে ছাত্রদের আন্দোলন দমন করতে পুলিশ প্রশাসন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্র্যাকিং, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ‘হোয়াটসঅ্যাপ লাইভ লোকেশন’ শেয়ার করার মতো নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারার আওতায় কিছু শিক্ষার্থীকে ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আগের বিক্ষোভের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।