Published : 14 Jul 2026, 07:20 PM
একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতার প্রতি নয়, বরং তা সংবিধান, আইন ও নিজের বিবেকের প্রতি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগের বিদায়ী বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে নিজের বিদায়ী সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।
আশফাকুল ইসলাম বলেন, "অবসর গ্রহণ আমার কাছে কোনো সমাপ্তি নয়, নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিচারকের পদ থেকে অবসর নেওয়া যায়, কিন্তু ন্যায়বিচারের আদর্শ থেকে নয়।"
বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হতাহতদের স্মরণ করেন তিনি।
প্রজাতন্ত্রের সেবা করাকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে অভিহিত করে বিদায়ী এই বিচারপতি বলেন,"ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে আমার নিজের শতভাগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি।"
দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "সেই পথে আমার কোনো আচরণ, কথা বা সিদ্ধান্তে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও মনে কষ্টের জন্ম হয়ে থাকে, তবে বিদায়ের এই মুহূর্তে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, সেই মনোকষ্ট ভুলে যাবেন।"
নবীন আইনজীবীদের সততা ও অধ্যয়নের ওপর জোর দিয়ে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, "একজন আইনজ্ঞের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সততা, এরপর তার চরিত্র আর তারপর তার অধ্যয়ন। আইনজ্ঞ হতে গেলে শেখার কোনো শেষ নেই।"
নিজের বাবা সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি এ.কে.এম নুরুল ইসলাম এবং মা একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুকে স্মরণ করেন আশফাকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
ওই সময় আপিল বিভাগের সাত বিচারকের মধ্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম থেকে যান। পরে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি করা হচ্ছে বলে খবর আসে। এর প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ১০ অগাস্ট আন্দোলনে নামেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা। তারা সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি ঘোষণার দাবি তোলেন।
তাদের দাবির মুখে সেদিন রাতেই সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি করার ঘোষণা আসে সরকারের তরফে।
১৯৫৯ সালের ১৫ জুলাই জন্মগ্রহণকারী আশফাকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পড়াশোনা শেষে ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে এবং ১৯৮৫ সালে হাই কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন। ২০০৩ সালের ২৭ অগাস্ট তিনি হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
এরপর ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।