Published : 12 Aug 2025, 06:40 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার ৬০৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
তফসিল ঘোষণার তিন থেকে সাড়ে তিন মাস আগে থেকে ‘কোর প্রশিক্ষণ’ ও প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিওটি) কার্যক্রম শুরু হয়। সে অনুযায়ী এবার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করবে ইসি।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে ছোট পরিসরে। এরপর ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘টিওটি’ এর কাজ শেষ হবে।
মঙ্গলবার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, “একজন নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও প্রশিক্ষণ তদারকি নিয়ে আমাদের বৈঠক হয়েছে। অগাস্টের শেষে ‘কোর প্রশিক্ষক’ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে ‘টিওটি’ শুরু হবে। ধাপে ধাপে মাঠ পর্যায়ে যথাসময়ে সব ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।”
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের জন্য ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসি।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সে অনুযায়ী অগাস্টের ২৯ ও ৩০ তারিখ নির্ধারিত কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে ‘কোর প্রশিক্ষণ’। এতে ইসি সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা অংশ নেবেন- যা দুটি ব্যাচে দুদিন হবে। এরপর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন থেকে শুরু হবে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। যেখানে ইসির মাঠ পর্যায়ের ও অন্যান্য বিভাগের সম্ভাব্য ৩ হাজার ৬০০ জন কর্মকর্তাকে ১৪০-১৫০টি ব্যাচে দুই দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন পরিচালনা বিধির সংশোধন কাজ দ্রুত শেষ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে সে অনুযায়ী ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা মুদ্রণের কাজ শুরু হবে। সেগুলো প্রশিক্ষণের সময় লাগবে।
তফসিলের আগে ও পরে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঢাকায় নির্বাচনি শিক্ষণ ইন্সটিটিউট প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার দাঁড়াতে প্রায় পৌনে ১৩ কোটি।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা একজন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দুইজন এবং ভোটকক্ষ প্রতি দুইজন পোলিং অফিসার মিলিয়ে কেন্দ্র প্রতি ৮/১০ জনের মত পোলিং অফিসার প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত লোকবলও প্রস্তুত রাখতে হয়। সব মিলিয়ে ৯ লাখেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে যতজন প্রয়োজন, তার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি লোকবল বাছাই করে প্যানেল প্রস্তুত করা হয়। এর জন্য ইসি সচিবালয় মাঠ কর্মকর্তাদের মাস দেড়েক আগে নির্দেশনা পাঠায়।
>> ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৪৪ হাজার ৯৩৪টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৫টি ভোটকক্ষ লাগতে পারে। এর মধ্যে সম্ভাব্য ২ হাজার ৭৮৬টি অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র ও ১৭ হাজার ৩০১টি অতিরিক্ত ভোটকক্ষ হতে পারে।
>> কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার ৫২৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।
>> আগের নির্বাচনের মত প্রয়োজনের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি কর্মকর্তা প্যানেলভুক্ত করে এবং ৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এবার ৯ লাখ ২৫ হাজারের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ভোটারের বিপরীতে ৪২ হাজার ১৪৮ টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ টি ভোটকক্ষ ছিল।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আগের তথ্যও থাকবে
ভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও প্রবাসীদের ভোটে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করছে ইসি। এক্ষেত্রে আগের নির্বাচনে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের তথ্যও রাখবে সংস্থাটি।
গত ৬ অগাস্ট প্যানেল প্রস্তুতি সংক্রান্ত সভায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহের তাগিদ দেওয়া হয়।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তা বাড়ছে
ভোটের সময় মালামাল সংগ্রহ থেকে ফলাফল কেন্দ্রে নেওয়া পর্যন্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেহরক্ষী থাকছে। নির্বাচন কমিশনের এ নীতিগত সিদ্ধান্তে সরকার সায় দিয়েছে।
প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ জোরালো করতে ইসির সুপারিশ হল-
>> প্রিজাইডিং অফিসার ও তার টিম মালামালসহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য যথোপযুক্ত যানবাহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
>> মালামাল গ্রহণ থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসারের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দাখিল করা পর্যন্ত একজন আনসার/পুলিশ সদস্যকে দেহরক্ষী হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়োজিত করা।
>> প্রিজাইডিং অফিসারকে সহযোগিতা করার জন্য একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া।
>> যতদূর সম্ভব কেন্দ্রের সকল মালামাল ও জনবল একইসঙ্গে কেন্দ্রে যাওয়া এবং অবস্থান বাধ্যতামূলক করা।
>> প্রিজাইডিং অফিসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাতে তাদের কেন্দ্রের জনবলের আহারের ব্যবস্থা করেন, তা নিশ্চিত করা।
>> গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৮৯ক অনুচ্ছেদ অনুসরণে প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষমতায়নের বিষয় বিবেচনা নেওয়া।
>> মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার, ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’, সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের ব্যবস্থা করা।
প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্বপালনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতামত দিতে বলা হয়েছে। ভোট ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে মাঠ কর্মকর্তাদের মতামত চেয়েছে ইসি সচিবালয়। আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সবশেষ রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনের সময় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে আনসার। এবার আমরা আরেকটা জিনিস করতেছি, অন্য সময়ে থাকে না, এবার প্রিজাইডিং অফিসারকে নিরাপত্তা দিতে হাতিয়ারসহ আনসার থাকছে।”
আরও পড়ুন-
প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় 'অস্ত্রসহ আনসার' থাকবে: স্বরাষ্ট্র
'বিতর্কিত' তিন নির্বাচন: ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য নিচ্ছে ইসি
নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং-পোলিং কর্মকর্তা চায় বিএনপি
সংস্কার: আরপিও, নির্বাচন কর্মকর্তা আইন সংশোধনসহ এক গুচ্ছ সুপারিশ নিয়ে বৈঠকে ইসি
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ নীতিমালা ও প্রশিক্ষণসূচি চূড়ান্তে বসছে ইসি