‘অযথা হেনস্তা হচ্ছি’, বললেন সেই ভারতীয় নাগরিক
“উনারা (পুলিশ) যা যা বলছেন, কিছুই পাননি। ভারতের ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে জড়িত কিনা সন্দেহ করছেন। আসলে আমি এমন কিছু না,” বলেন রবিউল।
রাজধানীর উত্তরা থেকে ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন আদালত প্রাঙ্গণে।
বাংলাদেশে গার্মেন্ট ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, অনেকবারই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। এখানে অনেক বন্ধু-বান্ধবও আছে। তাকে গ্রেপ্তার করার মত ‘কোনো কারণ নেই’।
সোমবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউলকে পুলিশ আটক করে। পরে নাশকতার জড়িত থাকার সন্দেহে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার তাকে আদালত হাজির করা হয়। পরে বিচারক তার চার দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।
এদিন আদালতের এজলাসে নেওয়ার সময় রবিউল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অযথা হেনস্তা হচ্ছি। উনারা (পুলিশ) যা যা বলছেন, কিছুই পাননি। ভারতের ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে জড়িত কিনা সন্দেহ করছেন। আসলে আমি এমন কিছু না।”
নিজেকে সাধারণ পরিবারের ছেলে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার পরিবারের সবাই চাকরিজীবী। কেউ স্কুল মাস্টার, কেউ পোস্ট অফিসে চাকরি করে। নাশকতার সঙ্গে আমরা সম্পৃক্তততা নাই।
“গ্রেপ্তারের পর আমাকে পরিবার বা বাংলাদেশের কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দিচ্ছে না। এখন তো দেখছি বাংলাদেশে আসাটাই ভুল হয়েছে।”
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আদালতের অনুমতি না নিয়ে ওকালতনামায় আসামির স্বাক্ষর নেওয়ায় রবিউলের পক্ষে তার আইনজীবী রুবেল আহমেদ শুনানি করতে পারেননি।
বিচারক রবিউলের কাছে জানতে চান, তিনি কবে বাংলাদেশে এসেছেন। জবাবে রবিউল বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন তিনি।
কী কাজ করেন, বিচারকের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি প্রায় বাংলাদেশে আসি। এখনকার বন্ধুদের গার্মেন্ট বিজনেস আছে। তারা মাল (পণ্য) পাঠায়, আমি সেগুলো দেখভাল করছি। গার্মেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।”
এসময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন, আসামির ভিসা আছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আছে।
এরপর তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “রবিউলের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্ম তারিখের মিল নেই। জিজ্ঞাসাবাদে এলোমেলো কথা বলেন।”
শুনানি নিয়ে বিচারক তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রবিউলের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হয় ডিবি পুলিশের। তিনি পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন। পরে ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, রবিউলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডির জন্ম তারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের মিল নাই। তিনি এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরতে পারেননি। তিনি একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন বলে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, “ধারণা করা হচ্ছে, আসামি বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধে জড়িত। সম্প্রতি ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতায় তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিউলের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার গৌড়ি ভোজ গ্রামে। তার বাবার নাম শহীদুল ইসলাম।
আরও পড়ুন-
নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক ৪ দিনের রিমান্ডে
