Published : 09 Jun 2026, 09:57 PM
দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং মরোক্কোকে এ দেশ থেকে আরো শ্রমশক্তি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন ও মরোক্কোর রাষ্ট্রদূত লাল্লা বুতাইনা এল কারদৌদি এল কৌলালি মঙ্গলবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করতে গেলে তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন।
বঙ্গভবনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই রাষ্ট্রদূত বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাদের ‘গার্ড অব অনার’ দেয়। এরপর প্রথমে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত, তারপর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রদূতকে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ও হুন্দাইসহ প্রায় শতাধিক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে ইয়াংওয়ান গ্রুপের কোরিয়ান ইপিজেড ও দেশের বিভিন্ন ইপিজেডে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা পরিচালনা করছে।
“একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমানে দেশে অত্যন্ত চমৎকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে।”

মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক ও অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ আরও বাড়াতে নতুন রাষ্ট্রদূতকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন।
এছাড়া দুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি কোরিয়ার বাজারে ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের চলমান শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর অন্তত আরো চার বছর অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি দুদেশের মধ্যে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা সেপা’ স্বাক্ষরের বিষয়ে সার্বিক অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মরক্কোর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতকালে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “দুদেশের মধ্যে বিরাজমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ও অগ্রসরমান।”
এ সময় রাষ্ট্রপতি ১৯৮১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি জিয়াউর রহমানের নামে মরোক্কোর রাজধানী রাবাতে একটি সড়কের নামকরণের জন্য সে দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি মরক্কোর স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো নির্মান, তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাত ও আইসিটিসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমশক্তি নিয়োগে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রদূতকে বলেন।
তিনি দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও মরোক্কোর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি, বেসরকারি বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর জোর দেন।