Published : 08 Jul 2026, 07:36 PM
জুলাই আন্দোলন আর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এক দিনের চেষ্টায় হয়নি বলে মন্তব্য করেছে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধ যেমন হঠাৎ করে হয়নি, তেমনি জুলাই আন্দোলনও কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠেছে।”
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শিরোনামের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোই জুলাইয়ের লক্ষ্য ছিল মন্তব্য করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আর্তনাদ, বৈষম্যের শিকার মানুষের ক্ষোভ, সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততায় আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কম্বোডিয়ায় হুন সেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে ২০২৩ সালে তার ছেলের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন। শেখ হাসিনাও তার শাসনব্যবস্থা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন।
“তিনি ক্ষমতা ছাড়লে ছেলে, মেয়ে কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের মধ্যেই ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। কারণ বাংলাদেশে বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল ছিল, যারা ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেছে।”
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আসলে সবার একটি অভিন্ন চাওয়া ছিল। সেটি হল শেখ হাসিনাকে যেতে হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠতে হবে। তার অপরাধ ছিল, তিনি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নষ্ট করেছেন।”
তিনি বলেন, “জুলাই সফল হওয়ার পর একেকজনের একেক ধরনের মতামত ছিল। কেউ বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক করতে চেয়েছেন, কেউ ভাবছিলেন সংবিধান স্থগিত রেখে বিপ্লবের নামে একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করে দেশ দখল করবেন। আবার কারো পরিকল্পনা ছিল নতুন করে সংবিধান লেখার। কিন্তু আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই কাজ করছি এবং সে পথেই এগিয়েছি।
“একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছি। এই সরকারের ভুল-ত্রুটি আছে, থাকবেও। নিজেও অনেক সময় সেসব ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার চেষ্টা করি। তবে সেগুলো সংশোধন করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।”
মাদারীপুর-১ আসনের এমপি আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত আসনের এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিন, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ নিসতার জাহান কবীর সভায় উপস্থিত ছিলেন।