Published : 01 Feb 2025, 03:46 PM
ঢাকা সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, অচিরেই এর সুফল মিলবে।
তিনি বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, ঢাকাসহ সারাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করনীয় দরকার পুলিশ তা করছে। ছিনতাইকারী যারা বিঘ্ন সৃষ্টি করছে তাদেরকে ধরার জন্য আমাদের ডিবির স্পেশাল টিমগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় আমরা অচিরেই সুফল পাব।”
শনিবার দুপুরে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, “আমাদের যে আইনানুগ ব্যবস্থা রয়েছে, আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ছিনতাইকারী, অন্যায়কারী সবাইকেই আমরা আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।”
জামিনে মুক্তি পাওয়া ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’দের বিষয়ে এক প্রশ্নে ঢাকার ডিবি প্রধান বলেন, “পিচ্চি হেলাল বা ইমনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রুপের যেই থাকুক তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। ইতোমধ্যে এসব গ্রুপের কয়েকজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”
তবে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এখনও ‘ট্রেস’ করা সম্ভব না হলেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ডিবির কয়েকটি অভিযানে আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত ২৮ জানুয়ারি দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে মিনহাজ নামের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার পটুয়াখালী থেকে কিং মাহফুজ গ্রুপের প্রধান মাহফুজ সরকারসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন- জাহিদুল ভুঁইয়া শাওন, সাব্বির সরকার, আশিক ও সোহান মিয়া।
এর আগে এই ঘটনায় আরও দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, “মিনহাজকে পূর্ব শক্রতার জের ধরে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কিং মাহফুজ গ্রুপের রাজনৈতিক পরিচয় আমরা এখনও জানতে পারিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি, ঘটনার সঙ্গে যারই সংশ্লিষ্টতা থাকুক আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”
গত ২১ জানুয়ারি পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় ছুরিকাঘাতে প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ সাজু মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার রাতে কুমিল্লা থেকে রোকন মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা।
রোকন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সেদিন সাজু মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে মোবাইলটি মতিঝিল এলাকার এক লোকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেদিন তার সাথে আসিফুজ্জামান লিসান, মোহাম্মদ মিজান এবং মোহাম্মদ সজীব ছিলেন। ইতোমধ্যে লিসান ও সজীব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

গত ৩০ জানুযারি আদাবরে চাপাতির কোপে সুমন শেখ নামে এক যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আলমগীর, শাহজাহান, তরিকুল ইসলাম ও রাহাত হোসেন নামে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া শুক্রবার রাতে ঢাকার রামপুরা এলাকা শামীম হোসেন নামে এক ছিনতাইকারীকে ছিনতাইয়ের সময় ‘হাতেনাতে’ গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, শামীম উত্তরা ও গাজীপুর এলাকার চুরি ও ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় ছিনতাই ও ডাকাতি প্রস্তুতির ঘটনায় সাতটি মামলা রয়েছে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাতে আদালত ভবনের সামনে থেকে রাজীব দাস নামের এক গহনার দোকানিকে মারধর করে এক কেজি স্বর্ণ লুটের ঘটনায় পটুয়াখালীর বাউফল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান রেজাউল করিম মল্লিক।
গ্রেপ্তাররা হলেন- বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, সবুজ হাওলাদার, আল আমিন খান, তরিকুল ইসলাম, শফিকুল রহমান চুন্নু ও আজিম উদ্দিন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৯২৮ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।