'শরীফার গল্প' নিয়ে বিতর্ক কেন?

বইটি সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত একজন বলেছেন, সমাজের একটি অংশ নেতিবাচক মনোভাব থেকে বের হতে পারছেন না।

কাজী নাফিয়া রহমানবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2024, 08:13 PM
Updated : 23 Jan 2024, 08:13 PM

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে ‘হিজড়াদের’ নিয়ে সপ্তম শ্রেণির একটি সচেতনতামূলক পাঠের বিষয়ে আপত্তি তুলে নতুন বিতর্কের অবতারণা করেছেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। 

‘শরীফার গল্প’ শিরোনামের ওই পাঠের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি বলছেন, পাঠ্যবইয়ের ওই অংশ ‘রূপান্তরকামী’ এবং ‘সমকামিতাকে’ উসকে দিচ্ছে। 

প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে বইয়ের ওই অংশ ছিঁড়ে দেখিয়ে অন্যদেরও তাই করতে তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। তার ওই বক্তব্য নিয়ে স্পষ্টতই বিভক্ত হয়ে পড়েছে সোশাল মিডিয়া। পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি সামনে আনছেন অনেকে। 

এ নিয়ে শোরগোলের মধ্যে বইটি সম্পাদনার সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, এ পাঠকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। 

তাদের একজন বলেছেন, ‘শরীফার গল্প’ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে। এই শিক্ষার্থীরা উচ্চ শ্রেণিতে গেলে এমনিতেই বিষয়গুলো জানতে পারবে। এ বয়সে তারা যতটুকু বুঝতে পারবে, সে অনুযায়ীই বইতে লেখা হয়েছে। 

আরেকজন বলেছেন, সমাজের একটি অংশ নেতিবাচক মনোভাব থেকে বের হতে পারছেন না। তারা পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন ‘কারণ ছাড়াই’।

কী ঘটেছে 

‘মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা’ বিষয়ে ধারণা দিতে সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে জায়গা পেয়েছে ‘শরীফার গল্প’ নামে জনসচেতনতামূলক ওই পাঠ। 

বইয়ের ৩৯ ও ৪০ নম্বর পৃষ্ঠায় অন্তর্ভুক্ত ওই পাঠে শিক্ষার্থীরা পড়বে নারী-পুরুষের বাইরে ‘তৃতীয় লিঙ্গের’ মানুষ বা ‘হিজড়াদের’ জীবনের কথা। 

পাঠ্যপুস্তকটির পাঠের এ অংশ নিয়েই গত কয়েকদিন ধরে তুমুল বিতর্ক চলছে দেশজুড়ে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে আগে থেকেই বিভক্তরা এ প্রসঙ্গ ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আরও গরম করে তুলেছেন। 

এ বিতর্কের সূচনা করেছেন আসিফ মাহতাব, যিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। 

গত শুক্রবার রাজধানীতে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে এক আলোচনায় ‘সমকামিতার উসকানির’ অভিযোগ তুলে তিনি পাঠ্যবইয়ের ওই অংশের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। সেই ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। 

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের একটি গল্প কীভাবে সমকামিতাকে উসকে দিচ্ছে, ট্রান্সজেন্ডারদের বিরোধিতা কারণ কী- সেই প্রশ্ন নিয়ে সরাসরি আসিফ মাহতাবের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। কয়েক দফা ফোন করে এবং এসএমএস পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। 

তবে ফেইসবুকে নিজের অবস্থান তিনি বিভিন্ন পোস্টে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। তার সারমর্ম হল, বাংলাদেশে হিজড়া আর ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। 

তিনি লিখেছেন, “শারীরিকভাবে যারা পুরুষ, যারা নারীর অধিকার চাচ্ছে, বা যে সব পুরুষ সার্জারি অথবা ড্রাগের মাধ্যমে নারীর অবয়ব নিচ্ছে (ট্রান্সজেন্ডার), তারা আসলে আমাদের ভাই বোন ছেলেমেয়ে যারা হিজড়া তাদের অধিকার ছিনতাই করার চেষ্টা করছে। এটা আমরা কোনোদিন মেনে নিব না।”

আসিফ মাহতাব ফেইসবুকে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন ‘ইসলামিক পলিটিক্যাল ফিলোসফার’। ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে অ্যানালাইটিক্যাল ফিলোসফিতে মাস্টার্স করার কথাও তিনি সেখানে লিখেছেন।

গত শুক্রবার তিনি যে অনুষ্ঠানে সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই থেকে ‘শরীফার গল্প’ অংশটি ছিঁড়ে এই বিতর্ক উসকে দিয়েছেন, সেই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক: বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’। আয়োজক ছিল ‘জাতীয় শিক্ষক ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন, যারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি সহযোগী সংগঠন। 

'মানুষ কীভাবে সমকামী হতে পারে' কিংবা 'একটা রাষ্ট্র কীভাবে সমকামী হতে পারে' এমন প্রশ্ন ওই অনুষ্ঠানে তোলেন আসিফ মাহতাব। 

বই থেকে ‘শরীফার গল্প’ অংশটি ছিঁড়ে দেখিয়ে তিনি বলেন, “বইয়ের দোকানে যাবেন। ৮০ টাকা দিয়ে বইটি কিনে এইযে দুইটা পাতা আছে, শরীফ-শরীফার পাতা দুটি ছিঁড়বেন। ছেঁড়ার পরে আপনারা বইটা দিয়ে বলবেন, বইটা অর্ধেক দামে বেচো। যাতে মানুষের অ্যাওয়ার হয়। এটাই হবে আমাদের প্রতিবাদ। আমার টাকা দিয়ে আমি শরীফ-শরীফার পাতা দুইটা ছিঁড়ব।” 

তিনি বলেন, “এলিট সোসাইটি রিলেশনশিপ করত গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড। এখন আপনাদের ছেলে-মেয়েরাও রিলেশনশিপ করে। এই এলিট সোসাইটি যখন চেঞ্জ হয়ে যাবে, বাকিটাও চেঞ্জ হয়ে যাবে। এখন যদি না থামাতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

“বাংলাদেশে আইন হবে, যারা ট্রান্সজেন্ডার, যেসব ছেলেরা নিজেদের মেয়ে বলে পরিচয় দেবে, তাদের চাকরি হবে। আর যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের এক বছরের জেল-জরিমানা হবে। এটা কিন্তু বাস্তবতা। এই আইন পাস হলে আমরা কিন্তু শেষ।”   

বিবিসি বাংলা মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, তারা সেদিনের অনুষ্ঠান এবং বই ছেঁড়া নিয়ে আসিফ মাহতাবের সঙ্গে কথা বলেছে। 

তিনি বলেছেন, “ট্রান্সজেন্ডার মতবাদে আমাদের যুব সমাজকে যাতে ব্রেইনওয়াশ করা না হয়, তাদের জীবন যাতে ধ্বংস করা না হয় - তাদের প্রটেকশনের জন্যই এ বক্তব্য দিয়েছি।” 

আনুষ্ঠানিক কোনো সভায় জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের পাতা ছিঁড়ে ফেলাকে সঠিক কাজ বলে মনে করেন কী-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহতাব বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমি আমার ল'ইয়ারের সাথে কথা বলেছি, ল'ইয়ার টিমে যারা আছেন তারা বলছেন এখানে কোন ল ব্রেক হয়নি।" 

"এ রকম প্রতিবাদের অনেক প্রিসিডেন্স আছে। সারা বিশ্ব জুড়েই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও আছে। আমি দুইটা পাতা ছিঁড়ে প্রতিবাদ করতেই পারি, আমার লইয়ার টিমের ভাষ্য অনুযায়ী এখানে কোনো আইন ভঙ্গ করা হয়নি।” 

‘না জেনেই’ আন্দোলন 

বিষয়টি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় নানা আলোচনার মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার এক বিবৃতি দিয়ে জানায়, আসিফ মাহতাবের সঙ্গে বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো চুক্তি নেই। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ‘একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তি এবং সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে’ দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এরপর আসিফ মাহতাব এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “আমাকে এইমাত্র ফোন করে জানানো হয়েছে যে, আমি যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ক্লাস না নিতে যাই। আমি জানি না হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত তারা কেন নিল। আমাকে কোনো কারণ তারা দেয়নি।” 

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড্ডা ক্যাম্পাসের সামনে জড়ো হয় একদল শিক্ষার্থী। তাদের হাতের ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘সে নো টু এলজিবিটিকিউ’, ‘উই ডোন্ট প্রমোট এলজিবিটিকিউ’। 

এই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আসিফ মাহতাবকে চাকরিতে না রেখে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ও সমকামিতাকে ‘সমর্থন করছে’। তারা ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি ব্র্যাকের পণ্য বর্জনেরও ডাক দিয়েছেন। 

এই কর্মসূচির আহবায়ক মুনতাসীর মামুনের কাছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে চেয়েছিল, 'শরীফার গল্পে' তারা কোথায় আপত্তি দেখছেন। 

উত্তরে তিনি বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ে আসিফ মাহতাব কথা বলেছেন এবং কেন বই ছিঁড়ে ফেলেছেন সে বিষয়টি তিনি জানেন না। 

“এইভাবে আমার জানা নেই বিষয়টি, বাস্তব কথা যেটা।” 

আন্দোলনে থাকলেও ঘটনাপ্রবাহ যে জানেন না, সেটা স্বীকার করে মুনতাসীর মামুন বলেন, “আমি আসলে উনার বিষয়ে পুরোটা বলতে পারছি না। কারণ আমার কাছে পুরো ঘটনা নাই।” 

এই শিক্ষার্থীর দাবি, তাদের আন্দোলন আসিফ মাহতাবের চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে এবং তারা চান কোন ধরনের সমকামিতা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে না থাকুক। 

'শরীফার গল্প' কেন পাঠ্যবইয়ে? 

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের রচনা ও সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা আবুল মোমেন বলেন, সব সম্প্রদায়ের মানুষের কথা যেন থাকে সে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ে। 

"কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি যেন শিশুদের মনের মধ্যে কোনো ধরনের হেয়বোধ বা তুচ্ছ ধারণা না থাকে। সমাজস্বীকৃত লিঙ্গের বর্গবহির্ভূতদের আমরা তৃতীয় লিঙ্গ বলে থাকি। ব্যাপক অর্থে হিজড়া বলে পরিচিত। ট্রান্সজেন্ডার, থার্ড জেন্ডার- এসব বিষয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। সেটা স্কুল পর্যায়ে না, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তারা জানবে। 

"তারা যতটুকু বুঝতে পারবে, ততটুকু জানানোর কাজটাই আমরা করেছি। এখানে বিতর্ক করার মত কোন বিষয় আছে বলে আমার মনে হয় না।”

আবুল মোমেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অন্তর্ভুক্তি। সমাজে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক পর্যায়ের যারা আছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা।" 

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড- এনসিটিবির সদস্য মো. মশিউজ্জামান বলছেন, বইয়ে ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। 'মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা' বিষয়ে ধারণা দিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে পাঠে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

"বইয়ের পুরো অধ্যায়টাই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ। যে যেই সম্প্রদায়েরই হোক না কেন, মানুষকে যেন মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করতে পারি আমরা। সেখানে শুধু তৃতীয় লিঙ্গ নয়, বেদে সম্প্রদায়ের কথাও বলা হয়েছে। তারা যে নৌকায় বসবাস করে, সে বিষয়ে বলা হয়েছে। 

"আমরা বলতে চেয়েছি যে, সব মানুষকেই আমরা সৃষ্টির বৈচিত্র্য, জীবনধারার বৈচিত্র্য হিসেবে দেখে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা স্থাপন করব।" 

প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে পাঠ্যবই ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, "এভাবে বই ছিঁড়তে কী পারে কেউ? আমি ধরেই নিলাম সেখানে একেবারে পাঠের অনুপোযোগী কিছু বলা হয়েছে, তারপরও কি সে বই ছিঁড়ে ফেলতে পারে? সেই অধিকার কী তার আছে?" 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তারিক আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে 'শরীফার গল্পটি' রাখা হলেও সমাজের একটি অংশ ‘বৃত্ত থেকে’ বের হতে পারছে না। 

"তৃতীয় লিঙ্গ যেহেতু সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত, তারা নাগরিক অধিকার পাওয়ার দাবি রাখে এবং মানুষের বৈচিত্রেরও অংশ তারা। সেজন্য শিক্ষার্থীরা তাদের সম্পর্কে একটি ‘ইতিবাচক’ ধারণা নিয়ে যেন বেড়ে ওঠে, এজন্যই এটা রাখা হয়েছে।" 

তিনি বলেন, "আমাদের নেতিবাচক ধারণার কারণেই তারা সমাজচ্যুত হয়ে যায়, নাগরিক অধিকারগুলো পায় না। সেই জায়গায় ভবিষ্যত নাগরিকরা এই কাজটা যেন না করে, যেটি আমরা বা আমাদের পূর্বপুরুষরা করে এসেছে। সে কারণেই গল্পটা এখানে দেওয়া হয়েছে।

"এখানে পরিবর্তন আনার পরও একইভাবে আবার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা এভাবে ব্যাখ্যা করছে, বুঝতে হবে তারা একটি নির্দিষ্ট লেন্স থেকেই দেখার চেষ্টা করছে। তার বাইরে আর যাচ্ছে না।" 

তারিক আহসান বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ, থার্ড জেন্ডার, ট্রান্সজেন্ডার- এই টার্মগুলো আগের বছর এই গল্পে ছিল। তখন এ বিষয়ে আপত্তি থাকায় এবার সেখানে সংশোধন আনা হয়েছে। 

"কারিকুলাম ডেভেলপের জায়গা থেকে সংশোধন সবসময়ই আনা হয়। অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পরিবর্তন আনা হয়।"

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, পাঠ্যবইয়ের এই অংশ নিয়ে তার কাছেও একটি পক্ষ গিয়েছিল। 

"তারা দাবি করেছেন, এখানে ট্রান্সজেন্ডার শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়টি তারা আমাদের নজরে এনেছিলেন। তবে আমরা যখন আলোচনা করেছি তখন দেখেছি শব্দটা ট্রান্সজেন্ডার নয়, শব্দটা থার্ড জেন্ডার অর্থাৎ তৃতীয় লিঙ্গ। এটা আইনত স্বীকৃত যে, তারা তৃতীয় লিঙ্গ; সমাজে হিজড়া নামে পরিচিত তারা। তারা আমাদের দেশের নাগরিক। তাদের নাগরিক অধিকার রয়েছে।” 

নতুন শিক্ষাবর্ষের এক মাসের কম সময়ে এই সমালোচনা শুরুকে তিনি দেখছেন, ‘বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা’ হিসেবে।  

আরো পড়ুন

Also Read: ‘শরীফার গল্পের’ উপস্থাপনায় বিভ্রান্তি থাকলে পরিবর্তন করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

Also Read: আসিফ মাহতাবকে পুনর্বহালের দাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ